ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ সোমবার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে মানবিক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে রুশ বাহিনী তাদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
ছয় দিনব্যাপী এই যুদ্ধবিরতি—যা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এবং পোপ লিও-র অংশগ্রহণে কার্যকর হয়েছিল—তার উদ্দেশ্য ছিল সম্মুখসারির এই শহরটিতে ত্রাণ পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। মেলানিয়া ট্রাম্প ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জনকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তারা রুশ ইউনিটগুলোর রদবদল, প্রতিরক্ষা অবস্থান সুদৃঢ় করা, বিভিন্ন রাস্তায় ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থার বিস্তার এবং গোলাবারুদ সরবরাহসহ অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে দেখেছে।
‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, “ওলেশকিতে মানবিক কার্যক্রমের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী চুক্তির শর্তাবলি কঠোরভাবে মেনে চলেছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এর বিপরীতে, শত্রুপক্ষ এই মানবিক বিরতিকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করেছে।”
ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের ৩৪তম স্বতন্ত্র মেরিন ব্রিগেড ‘বরিসফেন’ খেরসন অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (এয়ার রেইড সাইরেন) উপেক্ষা না করেন। তারা উল্লেখ করেছে, রাশিয়া “যুদ্ধবিরতির সময়টিকে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রস্তুতির কাজে ব্যবহার করেছে।”
ব্রিগেডটি আরও জানিয়েছে, সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২৭ অক্টোবর কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি রবিবার গ্রিনিচ মান সময় (GMT) রাত ৯টায় শেষ হয়। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটিই ছিল স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি।
খেরসন সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ইয়ারোস্লাভ শানকো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সোমবার ওলেশকি শহরের কেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা হয়েছে। শহরটি দিনিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় অবস্থিত, যা ওলেশকির ঠিক বিপরীতে পড়ে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খেরসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দ্র প্রোকুদিন টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, সোমবার জিএমটি সময় ভোর ৪টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় রুশ বাহিনী ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ১৬টি বসতিতে গোলাবর্ষণ করেছে এবং ড্রোন ও বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে; এই বসতিগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক রাজধানী খেরসনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক ন্যায়পাল (অমবুডসম্যান) দিমিত্রো লুবিনেৎস রবিবার টেলিগ্রামে লিখেছেন, উভয় পক্ষই “এই পুরো সময়জুড়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলেছে।”

































































