যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসি বাঙ্গালী সংস্কৃতির অন্যতম অগ্রগণ্য সংগঠণ কারিগরের ব্যবস্থাপনায় ফ্লোরিডার ওয়েলিংটন অ্যাম্পিথিয়েটারে ১৭ মে, ২০২৬ রবিবার উৎযাপিত হয়ে গেল তাদের ১১তম বাংলা বর্ষবরণ “বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩, ‘তিড়িং বিড়িং বৈশাখ’”। এখানে অনেক দিন পরে দর্শকরা উপোভোগ করেছেন যাত্রাপালা ‘বেহুলা’।
বিকাল ৩টায় উদ্বোধনী আলোচনা পর্বের পরে কারিগরের সংগীত গ্রুপের সমবেত কন্ঠে বৈশাখের আগমনী গান পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল এবং বিনোদন পর্ব। একের পর এক গানে যখন দর্শকরা বিমোহিত তখন নৃত্য শিল্পীরা নিয়ে আসেন গানের তালে তালে নৃত্য। শিশু নৃত্য শিল্পীদের মনমুগ্ধকর নৃত্যের তালে মোহমুগ্ধ হয়ে যায় উপস্থিত সকল বয়সের দর্শক।
বড় পরিসরে তাদের এই আয়েজনে বাংলার লোকজ উপাদানের ছড়াছড়ি ছিলো চোঁখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মতো। মঞ্চ সাজানো হয় বাংলার একেবারে আদি উপাদান ‘নকশী কাঁথা’র নকশা দিয়ে। উৎসব স্থান ছিলো নকশা করা রিক্সা, বেবিট্যাক্সি এবং বৈশাখী মুখোশে সজ্জিত। যা দর্শকদের মনে ফ্লোরিডায় রমনা বটমূলের অনুভূতি জাগ্রত করেছে।
যখন মঞ্চে বিনোদনের ছড়াছড়ি তখন মঞ্চের বাইরে চলে দেদারসে কেনাকাটা, মুখরোচক খাবার থেকে স্বর্ণালংকার পর্যন্ত সব ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়েছিলেন ব্যাবসায়ীরা। যাদের কেনাকাটা খুব প্রিয় তারা অনুষ্ঠান উপভোগ করার সাথে সাথে পছন্দের এবং দরকারী কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন এই উৎসবময় প্রাঙ্গণ থেকে।
এ বছরের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের বিটিভিতে ‘এসো গান শিখি’ এর জনপ্রিয় দুই পাপেট চরিত্র “মিঠু ও মন্টি”। উপস্থিত সকল দর্শক তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে স্মৃতিকাতর হয়ে কিছু সময়ের জন্য শৈশব স্মৃতির গহীনে চলে গিয়েছিলেন।
কারিগরের নেত্রীবৃন্দ বলেন “আমরা সকল সদস্য সাংস্কৃতির এক একটা শাখায় পারদর্শী, আর নানা পথে আমরা এসে একটা বিন্দুতে একত্রিত হয়েছি। আমরা চাই, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের সংস্কৃতির সাথে থাকুক। তারা যেন কোন অবস্থাতেই শিকড় থেকে দূরে চলে না যায়। আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এতো মানুষ আমাদের প্রচেষ্টার প্রতি এভাবে বিশ্বাস স্থাপন করবেন আমরা ভাবতে পারিনি। তাদের এই সাড়া আমাদের শক্তি দিয়েছে, এর প্রভাবে আমরা আরও ভালো করার জন্য ভবিষ্যতে সচেষ্ট হতে বাধ্য হবো। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও বাঙ্গালী কমিউনিটির থেকে এমন সাড়া পাব।”
কারিগরের কনভেনার আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের সংস্কৃতির দ্রুবপদী ধারায় থেকে আসল সংস্কৃতিকে ধরে রেখে মূলধারার উৎসবগুলোকে ফিরিয়ে এনে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের সংস্কৃতি থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া কিছু উৎসব ফিরিয়ে এনে উপস্থাপন করেছি।
কারণ আমরা মনে করি সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া খুবই দুঃখের, আবার বিকৃতিও আমাদের কাম্য না।আমরা সংস্কৃতির মূলে থেকেই সবার মাঝে আমাদের আনন্দ বিলিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর, দর্শকরা আমাদের যে ভাবে গ্রহণ করেছে তা দেখে আমার মনে হয় আমাদের প্রচেষ্টা কিছুটা সার্থক হয়েছে।
সন্ধ্যা নেমে এলে উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ যাত্রাপালা শুরু হয়, এ বছর কারিগরের নিজস্ব প্রযোজনায় নির্ধারিত ছিলো ‘বেহুলা’। যাত্রাপালা পরিচালনায় ছিলেন ‘আতিকুর রহমান’, সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ‘ইমন সাহা’, শব্দ সম্পাদনায় ছিলেন ‘দেবজ্যোতি সেন’ আর কারিগরি সহায়তা সামলেছেন ‘মাহবুব বৈদেশী’। যাত্রপালা উপভোগ করে সব বয়সী দর্শকরা উচ্ছসিত হয়ে প্রশংসা করে বলেছেন, কারিগরের ব্যাবস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠান এক কথায় অসাধারণ। এমন অনুষ্ঠান তারা প্রতি বছর দেখতে চান।
রাত ১০টার দিকে উপস্থিত দর্শকরা পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে কোন একটা গানের সুর কন্ঠে বাজিয়ে একে একে উৎসব প্রাঙ্গণ ত্যগ করেন।
এ বছর এই উৎসবে প্রথমবার মিডিয়া পার্টনার তালিকাভুক্ত করেছে কারিগর। আর সে পথ ধরেই বাংলাটাইমস৩৬০ এই উৎসবের মিডিয়া পর্টনার হিসাবে যুক্ত হয়েছে।
বাংলাটাইমস৩৬০’র প্রকাশক শাওন ফারহানা উৎসবস্থলে উপস্থিত থেকে বলেছেন, “কারিগর একটা অসাধারণ অনুষ্ঠান আমাদের উপহার দিল। আমরা অভিভুত, শিকড়ের এতা দূরে থেকেও এমন ভাবে নিজের সংস্কৃতিকে এভাবে ধারণ করা যায় তা চিন্তার বাইরে। তারা ১১ বছর ধরে নিজস্ব একটি স্বকীয় ধারার জন্ম দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি জীবন্ত ও ছন্দময় করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে চলেছেন। তাদের এই ব্যতিক্রমি পথ চলার সাথে আমাদের সহযাত্রী করায় আমি কারিগরের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। আমার প্রত্যাশা তাদের এই প্রচেষ্টা অনন্তকাল চলতে থাকুক।”































































