মিশিগানের প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের কাছে সুরক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক দলের এই সদস্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে, দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য মিশিগানের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের পরিবর্তে রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে স্টিভেন্সের আকস্মিক সিদ্ধান্তটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনগুলোর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিশিগান সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হওয়া স্টিভেন্স, রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি তাঁর শীর্ষস্থানীয় কর্মীরাও পদত্যাগ করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “তিনি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন এবং মার্শাল সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবে তিনি যেহেতু কংগ্রেসের একজন সদস্য, তাই আমরা আশা করছি তাঁর অনুরোধ পূরণ করা হবে।”
প্রেক্ষাপট: প্রাইমারি প্রচারণার সময় ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির সমালোচনা—এই বিষয়টি ছিল স্টিভেন্স ও এল-সায়েদের মধ্যে মতপার্থক্যের একটি বড় কারণ।
স্টিভেঞ্জ বিতর্কিত প্রগ্রেসিভ স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সঙ্গে এল-সায়েদের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এছাড়া, পাইকারের চাচা সেঙ্ক উইগুরের সঙ্গে যুক্ত একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (PAC) একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল, যেখানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়—এটি নিয়েও স্টিভেন্সের আপত্তি ছিল।
এল-সায়েদ ওই বিজ্ঞাপনটির দায় অস্বীকার করলেও, স্টিভেন্সের মতে, তিনি তাঁর (স্টিভেন্সের) উদ্বেগ নিরসনে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি এবং প্রচারণায় তাঁর সহায়তাও চাননি।
পরিস্থিতি তখন আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন স্টিভেন্সকে জানানো হয় যে, এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে তাঁর আর কোনো জায়গা নেই। এরপর রবিবার একটি গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাইক রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে স্টিভেন্স তাঁকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার মন্তব্যের জন্য স্টিভেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সামগ্রিক পরিস্থিতি: এই সপ্তাহান্তে মিশিগানের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ অস্থির ছিল।
সোমবার ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ জানায়, এল-সায়েদের একজন সাবেক কর্মীসহ কয়েকজন ইহুদি-বিদ্বেষী (অ্যান্টি-জায়োনিস্ট) কর্মীর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মিশিগানের ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের আতঙ্কিত করার অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে—যেখানে আয়োজকরা ইসলামের সমালোচনা করছিলেন—সেখানে একজন প্রগ্রেসিভ কর্মী এক রক্ষণশীল ইহুদি কর্মীর ওপর হামলা চালান।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিশিগানের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্টিফেনস সম্প্রতি একজন ইহুদিবাদ-বিরোধী কর্মীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন; তিনি ওই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, ইসরায়েলের প্রতি তাঁর সমর্থনের কারণে তিনি তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিলেন।

































































