পারফরম্যান্সই ক্রিকেটারদের হাতিয়ার। ২২ গজই জবাব দেয়ার মঞ্চ। পারফরম্যান্সের চুল-চেরা বিশ্লেষণ, ধারাবাহিকতার ছবি খুঁজতে দেখতে হয় পরিসংখ্যানের পাতা। অবশ্য এতসব পক্ষে থাকলেও অনেকের ভাগ্যের শিঁকে ছিড়ে না। বঞ্চনার দহনে পুড়তে হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রপটের জলন্ত উদাহরণ রুমানা আহমেদ।
পারফরম্যান্স ভালো ছিল, বরং পজিশন অনুযায়ী সেরা। তারপরও ভালোর তো শেষ নেই। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেছিল, আরও ভালো করতে হবে। পরামর্শ অনুযায়ী মাঠে নিজেকে ব্যাটে-বলে, ফিটনেসে প্রমাণ করেও জাতীয় দলে ব্রাত্য রুমানা।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং নন্দিত অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ বলছিলেন, তার সঙ্গে ভয়ংকর রকমের অবিচার করা হয়েছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন দলের ম্যানজেমেন্ট থেকে শুরু করে খোদ বোর্ডের প্রধান নির্বাহিও। তার সঙ্গে একান্ত আলাপকালে সেই অভিযোগতো করলেনই, বললেন, না বলা অনেক কথা। বাংলাটাইমস৩৬০’র সাথে একান্তে আলাপকালে কথাগুলো জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এই অলরাউন্ডার।
প্রশ্ন: ক্রিকেট ছেড়ে দিলেন নাকি?
রুমানা: না, ছেড়ে দিয়েছি বলাটা ভুল হবে, আমাকে ছাড়িয়েছে এই কথাটা সঠিক হবে। আমি এটা অবশ্যই বলবো যে আমি শুধু শুধু ছেড়ে দেইনি। আমাকে নিয়ে যেখানে তাদের কোন পরিকল্পনাই নেই সেখানে আমি কি করে থাকি বা খেলি বলেন।
প্রশ্ন: তাহলে কী আপনার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে?
রুমানা আহমেদ: অব্যশই আমি মনে করি আমার সাথে অবিচার করা হয়েছে। কারণ আমার ক্যারিয়ারের যে পরিসংখ্যান আছে সেটার ভিত্তিতে আমি এখন যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি, এটা আসলে যায় না।
আপনি যদি আমার বাদ পড়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেখেন খুব সহজেই বুঝবেন যে পারফরম্যান্সের কারণে আমি বাদ পড়িনি। তারা (বিসিবি) আমাকে বলেছে তোমার পারফরম্যান্স ইস্যু, ওকে ফাইন আমি পারফরম্যান্স ঠিক করেছি। তারপর যখন পারফরম্যান্স ঠিক হলো তখন বলে তোমার ফিটনেস ইস্যু, আমি ফিটনেসও ঠিক করেছি। তো শেষে যখন শুনলাম যে আমাকে নিয়ে তাদের কোন পরিকল্পনা-ই নেই তখন না ছেড়ে আর উপায় কি বলেন? আমি তো আর আমার প্রতি তাদের ধারণা বদলাতে পারব না, তাই না? আমি কেন দলে থাকব সেই জবাব দিবে আমার পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স। এবং তারা সেটা খুব ভালো করেই জানে। এর পরেও অধিনায়ক না হোক একাদশে আমার জায়গা হবে না সেটা আজও মেনে নিতে পারছি না। তো সব কিছু মিলিয়ে আমি বলবো আমার সাথে আসলে অবিচার করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার মত একজন অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারের শেষটা এভাবে হবে ভেবেছেন কখনো?
রুমানা: না না কখনো ভাবিনি। সত্যি বলতে এমনটা যে শুধুই আমার সাথে হয়েছে এটা না। আমাদের অন্যান্য সিনিয়র প্লেয়ারের সঙ্গেও হয়েছে। যেমন আমি যদি নাম করে বলি, সালমা আপুর (সালমা খাতুন) সাথে হয়েছে। উনি এই পর্যায়ে এসে, এই বয়সে এসে যে বল করছে আমার মনে হয় না বাংলাদেশের কোনো অফ টপ স্পিনার তার ধারের কাছে আছে। হ্যাঁ, সে সারা জীবন ক্রিকেট খেলবে না এটা সত্যি। কিন্তু তাকে যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে এটা অন্যায় হয়েছে। জাহানারার (জাহানারা আলম) ক্ষেত্রে যদি বলেন, জাহানারাও একই ক্যাটাগরিতে পড়ে। সেও কিন্তু পারফর্ম করছিল, তাকে শুধু শুধু দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। আরও আছে, যেমন: আয়শা রহমান শুকতারা। ও যে লেভেলের প্লেয়ার বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের কথা বলব। আমার মনে হয় না ওই লেভেলের কোন ব্যাটসম্যান আজও বিসিবি তৈরী করতে পেরেছে।
তবে হ্যা, যদি বলেন ফিটনেসে; আমি অকপটে বলব, ফিটনেসের ঘাটতি সিনিয়রদের আছে। আর এটা তো সবাই বোঝে যে সিনিয়র আর জুনিয়রের ফিটনেস লেভেল এক হবে না। আমরা ক্যারিয়ারের অনেকটা বছর পার করে এসেছি। কিন্তু আমাদের সাথে যখন জুনিয়রদের সাথে ফিটনেস একটি ইস্যু হিসেবে দাড় করানো হল, আমার কাছে খুব হাস্যকর মনে হয়। ধরেন, এখন মারুফা (মারুফা আক্তার) যে লেভেলের ফিটনেস করে আমিও সেই লেভেল করব এই চিন্তাধারাটাই আমার কাছে অন্যায় মনে হয়।
আমি যখন ক্রিকেট খেলেছি কারও সাথে নিজের তুলনা করিনি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল কি করে আমার সেরাটা বের করতে পারি। আপনারা জানেন এশিয়া কাপের ‘প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার ‘র জন্য আমি আইসিসি থেকে একটা ক্যাপও পেয়েছি। সেখান থেকে আমি কখনোই আমি ভাবতেই পারিনি এমনটা হবে।
প্রশ্ন: আপনাকে এভাবে বের করে দেওয়ার পেছনে কারা দায়ী?
রুমানা: সমস্যাটা হয় মূলত কোচিং স্টাফ নিয়ে। কেননা তারা তাদের কম্ফোর্ট জোনে চলতে পছন্দ করে। সব সময়ে দেখেছি একজন নতুন কোচ এসে তারমত করে সেটআপ তৈরী করেছেন। মানে নতুন ম্যানেজমেন্ট এসেছে তো পুরোনো সব বাদ। সে কিন্তু দেখছে না এই সেটেলড দলটা গড়তে কত সময় লেগেছে, কত পরিশ্রম, কত পরিকল্পনা ছিল। আরও মর্মান্তিক হল সে ভাবেও না কি করে এই দলটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়। বিষয়টি এমন- আমি এসেছি তার মানে সবকিছু আমার পছন্দ মতো হবে। প্লেয়ার থেকে শুরু করে অফিসিয়াল সবকিছু আমার সেটআপে চলবে। এতে করে আখেরে দলের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হয় না। এবং আমাদের দলের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় দেখা যায়নি।
আমার সাথে অন্যায়ের শুরুটা হয়েছে ২০২০ সালে। ওই সময় কিছু কিছু সিদ্ধান্তের কারণে ম্যানেজমেন্ট ও আম্পায়ারিং ইস্যুতে আমার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দ্বন্দ্ব বাধতো। তখন তওহিদ (তওহিদ মাহমুদ) ভাই ছিল আমাদের ইনচার্জ হিসেবে। উনি ওনার পছন্দ মতো প্লেয়ার দলে নেওয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু মূল সমস্যার শুরুটা হয় অন্যভাবে। বিসিবি আমাদের জন্য মঞ্জুর ভাইকে (মঞ্জুরুল ইসলাম, সাবেক পেসার) ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি প্রধান নির্বাচকও ছিলেন। আমার মনে হয় একসঙ্গে এতগুলো দায়িত্ব পেয়ে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি কেননা দিনের পর দিন তিনি তার পদের ক্ষমতা দেখিয়ে গেছেন।
ওনাকে প্রথম যখন নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল তখন আলাদা করে আমাদের কোচ ছিল না। আপনি জানেন আমাদের যে ভারতীয় কোচিং স্টাফ ছিল তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছিল। তো তারা চলে যাওয়ার পরে মঞ্জুর ভাইর পছন্দমত ইমরান স্যারকে (সারোয়ার ইমরান) কোচ হিসেবে নিয়ে আসলো।
সত্যি বলতে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করানোর জন্য যে লেভেলের কোচ দরকার ছিল তখন আমরা ওই লেভেলে কোচ পাইনি। তার মানে এটা না ইমরান স্যার খারাপ। যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হল, ম্যানজমেন্ট তাদের পছন্দ মতো ইমরান স্যারকে আনলো তার একমাত্র কারণ হল, ইমরান স্যারকে তারা তাদের কথা মতো চালাতে পারবে। আমরা যেটা দেখেছি। এবং হয়েছেও তাই। শুধু তাই না মঞ্জুর ভাইয়ের পছন্দ না হওয়ায় আমাদের ট্রেনার সিজার ভাইকেও সরে যেতে হয়েছে।
তার নিয়োগের পর থেকে তিনি (মঞ্জুর) সব একাই করতে চাইতেন। এবং আমাদের সিনিয়রদের সরানোর পেছনে তিনি অনেকটাই দায়ী। সে দলের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতেন। এর প্রতিবাদে আমরা সিনিয়ররা মোটামুটি একটা আওয়াজ তুলেছিলাম যা আমারদের সবাইকে দলের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। তানার ব্যাপারটা ছিল এমন; এটা করা যাবে না সেটা করা যাবে না। তার কথায় উঠতে হবে বসতে হবে।
কোন ট্যুরে গেলে খাওয়ার জন্য তাকে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখতে হবে তারপর খাবার আনবে। ধরেন আজকে আমার ভালো লাগছে না, ডিনার করতে ইচ্ছা করছে না, বা আমার কাছে যথেষ্ট খাবার আছে। তাই আমি ডাইনিংয়ে খাব না কিন্তু সে সেটা করতে দিত না। আমি খাই বা না খাই আমাকে টাকা দিতেই হবে। এগুলো নিয়ে যখন আমরা কথা বলি তখন আমরা খারাপ প্লেয়ার হয়ে যাই।
অথচ দেখেন আমাদের দারুণ একটা সেট-আপ ছিল। সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল। ইন্ডিয়াকে টানা দুইটা ম্যাচে হারিয়েছি। অথচ সেই দলটাকে হঠাৎ করে তাদের কমফোর্ট জোনে আনার জন্য তাদের পছন্দমত দল গড়ে তুললো, অধিনায় বদলালো। বদলাতেই পারে কিন্তু তখন আমি অধিনায়ক থাকা সত্বেও আমার সাথে কখখোনো কোনা প্রকার আলোচনা করেনি।
শুরুটা হয়েছে ২০২১ সালে সিলেটে বাংলাদেশ গেমস দিয়ে। ওখানে তিনটা দল ছিল: রেড, ব্লু আর গ্রিন। আমি গ্রিন টিমে ছিলাম। এই টুর্নামেন্টে এক দলে সালমা আপুকে অধিনায়, এক দলে জ্যোতি (নিগার সুলতানা) অধিনায়ক, আরেক দলে আমাকে অধিনায়ক করার কথা থাকলেও তারা এমন একজনকে এই দায়িত্ব দিল যার কিনা ঘরোয়া ক্রিকেটেও অধিনায়কত্ব করার কোন অভিজ্ঞতা নেই। এবং ম্যানেজমেন্ট থেকে বলা হল ম্যাচের সময় যেন আমি তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। আপনিই বলেন এটা আমার জন্য কতবড় অপমানের।
যেহেতু সেসময় আমার বদলি ছিল না তো ওইসময় হুট করে আমাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেয়নি। তাদের কৌশলটা দেখেন, প্রথম আমাকে বাদ দিল অধিনায়কত্ব থেকে। পরে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া শুরু করলো। অধিনায়ক থেকে বাদ দেয়ার পরে যেহেতু আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল তাই সেটা নিয়ে কথা বলতে পারেনি। এরপর কি করল, আমার পারফরম্যন্স কমানোর জন্য আমার সবকিছু বদলে দিল যেমন; আমার ব্যাটিং অর্ডার নামিয়ে দিল, বোলিংয়ে ও তাই। দেখা যাচ্ছে যে আমি তিন ইকোনোমিতে ওয়ার্ল্ড লেভেলে বল করছি, তো আমাকে ৫ ওভার ৭ ওভারের বেশি বল দেয়নি।
আমার মনে আছে দুই বছর আগে আমি যখন সিইওর (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, সিইও, বিসিবি) কাছে মঞ্জুর ভাইয়ের আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম তিনি আমাকে বলেন, ‘আপনারা একটু ইয়ে করেন’। এরপরও তার সাথে দুইবার কি তিনবার বসেছি। তিনি নিজেও জানতেন মঞ্জুরর ভাই আমাদের সঙ্গে কি কি করছেন। তথাপিও সে আমাকে বলছিলেন, “রুমানা তুমিতো অনেক বছর হলো খেলেছো এখন ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য চিন্তা করো”।
সমস্যাটা হয়ে যায় এখানেই। আপনি আমাকে দল থেকে বাদ দিবেন কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হলে ভালো হয়। এই বিষয়টি আমাদের ক্রিকেটের সংস্কৃতিতে পরিণত হওয়ায় আজ অবধি আমাদের বড় কোন ট্রফি নেই।
আপনি যদি আমাদের এশিয়া কাপ শিরোপার কথা বলেন তাহলে দেখেবেন এর পেছনে অনেক বছরের একটা পরিকল্পনা ছিল। এরপরে কিন্তু আর কোন বড় ট্রফির দেখা আমারা পাইনি। এরপর আপনি যদি অনূর্ধ্ব-১৯ ছেলেদের বিশ্বকাপ শিরোপা দেখেন ওদের পেছনে যে দুইটা বছর যে পরিশ্রমটা করেছে ওই পরিশ্রমের ফলেই কিন্তু এটা আসছে। এরপরে কিন্তু আর নেই।
প্রশ্ন: এই পর্যায়ে এসে কি মনে হয় ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা ভুল ছিল
রুমানা: এখন যে অবস্থা দাড়িয়েছে তাতে তো অবশ্যই আমি সেটা মনে করি। কারণ মেয়েদের ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফোকাসটা কম বলে আমি মনে করি। তো সে কারণে মনে হয় পেশা হিসেবে ক্রিকেট বেছে নেওয়া আমার জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা অনেক পরিশ্রম করে এই দলটাকে একটি জায়গায় দাড় করিয়েছিাম। অথচ আমরা যারা সিনিয়র আছি তারা কিন্তু বোর্ড থেকে ওইভাবে কোনো কিছু পাইনি। আজকে মেয়েদের বেতন বেড়েছে, ম্যাচ ফি বেড়েছে এর পেছনে সবদিক থেকে আমাদের অনেক অবদান ছিল। আজ অবশ্যই এটা দেখে কষ্ট লাগবে যে আমরা ক্যারিয়ারের শেষে বিসিবি থেকে নুন্যতম কোনো সুবিধা পেলাম না।
প্রশ্ন: শেষটা অবশ্যই ভালো হয়নি। এদেশের প্রেক্ষপটে একজন মেয়ে ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরুটাও নিশ্চয়ই সুখকর ছিল না?
রুমানা: আমাদের পুরষতান্ত্রিক সমাজে কত কথা শুনে মাঠে যেতে হতো! আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম বিশেষ করে আমরা যখন ঢাকায় লিগ খেলতে আসি তখন পর্যন্ত অনেকে বলতো যে এটা খেলে কিছুই হবে না। ছেলেরাই খেলে কিছু করতে পারছে না মেয়েদের দিয়ে কি হবে। আর এদের কোনা ভবিষ্যৎ নাই।
প্রশ্ন: এখন যদি বিসিবি আপনাকে কাজে লাগাতে চায় তাহলে কোনটা বেছে নিবেন?
যেহেতু আমি এতদিন ধরে ক্রিকেট খেলেছি বশ্যই চাইব যে আমার ভবিষ্যতও যেন ওই পথেই যায়। যদি ভালো কোনো দায়িত্ব পাই, আমার মন মতো যদি হয় আমি অবশ্যই করবো। কিন্তু তার জন্য আমাকে আগে সে বিষয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমি কোয়ালিটি কাজ করতে চাই। যদি দেখি কোয়ালিট নাই অবশ্যই আমি সেখানে যাব না।
২০২১ সালের নভেম্বরের শুরুতে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিসিবি ১৬ সদস্যের যে স্কোয়াড ঘোষণা করে সেখানে রুমানা জায়গা পেলেও অধিনায়ক ঘোষণা করা হয় নিগার সুলতানাকে। অধিনায়কত্ব হারানোর পরে ক্রমাগত দলে জায়গা হারান রুমানা এবং এর শুরুটা হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। সেসময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডে সামনে রেখে যে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয় সেখান থেকে বাদ পড়েন ২০১১ সালের অভিষিক্ত রুমানা। অবশ্য তখন মঞ্জুরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, রুমানাকে বাদ দেওয়া হয়নি, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রুমানা সেটিকে বাদ হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের জার্সিতে ৫০ টি ওয়ানডে খেলেছেন রুমানা যেখানে ব্যাট হাতে ৫ ফিফটিতে ৯৬৩ রান আর বল হাতে নিয়েছেন ৫০ উইকেট। ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস ৭৫ রানের ও সেরা বোলিং- ২০ রানে ৪ উইকেট। এদিকে টি-টোয়েন্টিতে ৮৪ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১ ফিফটিতে রান করেছেন ৮৫৪। বল হাতে এই লেগ স্পিনারের শিকার ৭৫ উইকেট। ২ রানে ৩ উইকেট তার সেরা বোলিং ফিগার।
২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ নারী দল। নারী-পুরুষ মিলিয়ে সিনিয়র লেভেলে এটিই দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সাফল্য। এই সাফল্যে রুমানা আহমেদ দারুণ ভূমিকা রাখেন। ফাইনালে বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে করেন ২২ বলে ২৩ রান। এই ম্যাচে সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।








































