সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনের সময় টিভি পুল (সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিয়োজিত যৌথ সম্প্রচারকারী দল) তাদের কভারেজ বা সম্প্রচার কার্যক্রম স্থগিত করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা আর শোনা যায়নি; কারণ হোয়াইট হাউস থেকে সরবরাহ করা ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যের কোনো ব্যবহারযোগ্য অডিও ছিল না।
বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ: সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিয়োজিত যৌথ দলের (পুল) প্রবেশাধিকার সীমিত করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টার এটি একটি উল্লেখযোগ্য ও তাৎক্ষণিক ফলাফল।
এই পুলটি শত শত সাংবাদিকের সেবা দেয়; তাই স্বাধীন টিভি কভারেজ বন্ধ হয়ে গেলে গণমাধ্যম—এবং সাধারণ জনগণ—কী দেখতে বা শুনতে পাবে, তা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
খবরের প্রেক্ষাপট: শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএনএন (CNN), এমএসএনবিসি (MSNBC) এবং পলিটিকো (Politico)-র ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন এবং শনিবার তাদের পরিচয়পত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কেড়ে নেন। তিনি এগুলোর বিরুদ্ধে “ভুয়া খবর” (FAKE NEWS) প্রচারের অভিযোগ আনেন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোমবার সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো মামলা দায়ের করে। তাদের যুক্তি হলো, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর (বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার) লঙ্ঘন।
জনগণ কী দেখবে এবং কীভাবে দেখবে—তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী নেটওয়ার্কগুলোর সম্মিলিত প্রতিবাদের এক বিরল দৃষ্টান্ত হলো এই যৌথ টিভি কভারেজ বা পুল-ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
পর্যবেক্ষণ (অ্যাক্সিওস-এর সাংবাদিক ও পুল সদস্য ব্রিটানি গিবসনের ভাষ্য): হোয়াইট হাউস প্রেস পুল হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি যৌথ বা সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা, যা গঠনগত ও প্রয়োজনীয়তা—উভয় কারণেই গড়ে উঠেছে।
অ্যাক্সিওস-সহ এই সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিদিন বিশ্বের সম্ভবত সবচেয়ে ক্ষমতাধর কার্যালয় এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকে। আমরা যা দেখি, শুনি বা ক্যামেরাবন্দী করি—তার দৈনিক প্রতিবেদনগুলো জনস্বার্থে দ্রুত ও সতর্কতার সাথে প্রচার করা হয়। এটি সেই কার্যালয়কে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
পুল কী এবং কীভাবে কাজ করে
কার্যপদ্ধতি: হোয়াইট হাউস প্রেস পুল হলো সাংবাদিকদের একটি ঘূর্ণায়মান বা পর্যায়ক্রমিক দল। তারা প্রেসিডেন্টের সব প্রকাশ্য কর্মসূচিতে তাঁর সাথে থাকেন এবং তাঁদের প্রতিবেদন, অডিও ও ফুটেজ অন্যান্য গণমাধ্যমের সাথে ভাগ করে নেন।
এই পুলে প্রায় ২০ জন সাংবাদিক থাকেন। তাঁরা ট্রাম্পের সাথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ভ্রমণ করেন এবং ওভাল অফিসে গাদাগাদি করে অবস্থান করে সর্বশেষ তথ্য বা আপডেট প্রদান করেন।
টিভি কভারেজের বিষয়টি পাঁচটি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল—এবিসি (ABC), সিবিএস (CBS), সিএনএন (CNN), ফক্স নিউজ (Fox News) এবং এনবিসি (NBC)। তারা পালাক্রমে সরাসরি বা লাইভ ফুটেজ সরবরাহ করে।
পুল কী কাজ করে
সামগ্রিক চিত্র: ট্রাম্প সবসময়ই নানা জায়গায় যাতায়াত করেন; তাই তাঁর অবস্থান ও কার্যক্রমের নথিপত্র বা তথ্য সংগ্রহ করা পুলের মাধ্যমে সহজ ও কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
এই পুলটি বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নথিবদ্ধ করে; যেমন—কখন ‘দ্য বিস্ট’ (ট্রাম্পের বিশেষ সুরক্ষাবলয়যুক্ত গাড়ি) কোনো নির্দিষ্ট স্থানে এসে পৌঁছায়। এটি এমন পরিস্থিতির জন্যও কভারেজ বা সংবাদ সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যখন প্রেসিডেন্টকে হঠাৎ করেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে হতে পারে।
এ বিষয়ে যা বলা হচ্ছে: ‘ফ্রিডম অফ দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’-এর অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন অ্যাক্সিওস (Axios)-কে বলেন, “এটি কেবল ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ মহলের খবর জানার মতো কোনো সাংবাদিকতা নয়।”
“আপনি যদি ওয়াইমিং, অ্যারিজোনা বা শিকাগোতে থাকেন, তবে খুব সম্ভবত হোয়াইট হাউস নিয়ে আপনি যে খবরটি পড়ছেন, তা এই ‘প্রেস পুল’ বা সংবাদ সংগ্রহের বিশেষ দলটির মাধ্যমেই এসেছে।”
বিস্তারিতভাবে দেখলে: স্টার্ন বলেন, “প্রেসিডেন্ট নিজেই যেন এক চলমান সংবাদ।”
“প্রেসিডেন্টের আচরণের কারণে ‘প্রেস পুল’-এর গুরুত্ব কমে গেছে। এই প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ‘প্রেস পুল’ সৎ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে না।”
“তবে একথা বলতেই হয় যে, এসব বিষয় এখনও সংবাদযোগ্য। এই প্রেসিডেন্টের আচরণ নিজেই একটি খবর। যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেও প্রেসিডেন্টের নিজের অহং-তুষ্টির প্রকল্পগুলো নিয়ে অনর্গল কথা বলাটা সংবাদযোগ্য। নারী সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর ক্রমাগত বিরূপ আচরণও সংবাদযোগ্য।”
বিপরীত মত: হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র ইমেইলে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে জায়গা দাবি করার কোনো অধিকার ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া সংবাদমাধ্যমের নেই।”
“তারা যেসব মিথ্যা ছড়ায় তা আমেরিকান জনগণের প্রতি এক ধরনের ক্ষতি এবং তা আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। তারা চাইলে সরাসরি বাইরে থেকেই সংবাদ সংগ্রহ করতে পারে।”
ওই মুখপাত্র অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর একটি পোস্টের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে: “হোয়াইট হাউস মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর কোনো আঘাত হানছে না—মুক্ত গণমাধ্যমকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। বরং এটি ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত হানছে।”
টিভি সম্প্রচার বন্ধ থাকার অর্থ কী?
টিভি ‘পুল ক্রু’ বা যৌথ সংবাদ সংগ্রহের দল না থাকলে, প্রেসিডেন্টের সীমিত-প্রবেশাধিকারের অনুষ্ঠানগুলোর কোনো স্বাধীন ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায় না।
সি-স্প্যান (C-SPAN) জানিয়েছে তারা ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস হেলিপ্যাডের ফিতা কাটার অনুষ্ঠানটি দেখাবে না, “কারণ এটি টিভি ‘পুল’-এর ওপর নির্ভরশীল এবং তাদের কাছে কোনো ভিডিও ফিড বা সংকেত পৌঁছায়নি।”
এই সম্প্রচার-বিরতির কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে: ট্রাম্পের জাতিসংঘ সফরের জন্য হোয়াইট হাউস ‘পুল’ কোনো ক্যামেরা সরবরাহ করবে না ঠিকই, তবে আশা করা হচ্ছে যে জাতিসংঘ নিজেই তাদের নিজস্ব ক্যামেরার মাধ্যমে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম সম্প্রচার করবে।
সারকথা: টিভি ‘পুল’ বা যৌথ সংবাদ সংগ্রহের দল জনগণকে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের স্বাধীন অডিও-ভিজ্যুয়াল রেকর্ড দেখার সুযোগ করে দেয়; অন্যথায় এসব অনুষ্ঠান কেবল সরকারি ক্যামেরার মাধ্যমেই দেখতে হতো।





























































