মঙ্গলবার কানসাসে অনুষ্ঠিত মার্কিন সিনেট নির্বাচনে অ্যাডাম হ্যামিল্টন জয়ী হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রাক্কলনে উঠে এসেছে। তিনি ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি গত ৯৪ বছরের মধ্যে কানসাস থেকে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর হলেন এবং এই জয় সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে সহায়তা করেছে।
এটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন, বিশেষ করে এমন একটি অঙ্গরাজ্যে যেখানে ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ শতাংশেরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন এবং যেখানে নির্বাচনটি মূলত রিপাবলিকানদের জন্য নিরাপদ বলেই ধারণা করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে অন্তত চারটি আসন বেশি পাওয়ার প্রয়োজন ছিল।
দেশের বৃহত্তম ‘ইউনাইটেড মেথডিস্ট’ ধর্মসভার যাজক হ্যামিল্টন তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয়সাশ্রয়ী বিষয় এবং উভয় দলের মধ্যে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি নিজেকে একজন “স্বাধীন চিন্তাধারার ডেমোক্র্যাট” হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং রিপাবলিকানদের করা ‘চরম বামপন্থী’ হিসেবে তাঁর যে চিত্রায়ণের চেষ্টা ছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
“একে অপরকে ভালোবাসুন” (love one another) লেখা একটি ব্যাজ পরিহিত হ্যামিল্টন তাঁর বিজয় ভাষণে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি—যেমন শুল্ক আরোপ এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সংকোচনের ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হ্যামিল্টন বলেন, তাঁকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে “কানসাসের জনগণ—রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট এবং স্বতন্ত্র ভোটাররা—এই বার্তাই দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনে যা ঘটছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
নির্বাচনের শেষ সপ্তাহগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ তীব্র হয়ে ওঠে, যার ফলে ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্শালকে সমর্থন জানাতে কানসাসে প্রচারাভিযানে অংশ নেন।
১৯ অক্টোবর উইচিটা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন কৃষি বিভাগ কৃষকদের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি “হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম” (ফসল তোলার মৌসুমে জ্বালানি ব্যয় সহায়তা কর্মসূচি) চালু করবে, যা কৃষকদের ডিজেল কেনার খরচ মেটাতে সাহায্য করবে।
৬২ বছর বয়সী হ্যামিল্টন খ্রিস্টধর্ম ও ধর্মতত্ত্বের ওপর ৩০টিরও বেশি বই লিখেছেন।
তিনি এবং মার্শাল—উভয়ই কানসাসের কৃষকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যারা ডিজেল ও সারের উচ্চমূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আংশিকভাবে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে।
রাজনীতিতে আসার আগে প্রসূতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত মার্শাল ২০১৬ সালে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এবং ২০২০ সালে সিনেটে নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে, বকেয়া বিল পরিশোধ না করার কারণে তিনি ৭০০ জনেরও বেশি রোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন; এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। সেপ্টেম্বরে ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই নিবন্ধটিকে একটি “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ” (হিট জব) বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি পাওনা আদায়ের প্রচলিত পদ্ধতিই অনুসরণ করেছিলেন।






























































