
দেয়াল ভাঙা আকাশ
তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ—
তবু কেন আমাদের মাঝে
এতো দীর্ঘ দূরত্ব,
এতো অনতিক্রম্য ব্যবধান?
তোমার চোখে বাজারের হিসাব,
মুনাফার রেখাচিত্র ,
শোষণ ও লুটতরাজের সুপরিকল্পিত নকশা—
যেখানে ধর্মান্ধতার মুখোশে
সহিংসতা পায় বৈধতার ভাষা।
আমি খুঁজি মানুষকে মানুষ হিসেবে—
আছে যেথায়
একচিলতে দায়, মানবতার উষ্ণ স্পর্শ
রক্ত-মাংসের গভীরে লুকিয়ে থাকা,
সহমর্মিতার আলো।
তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ—
তোমার হাতে শিকল, আর আমার হাতে স্বপ্ন।
তুমি নির্মাণ কর দেয়াল
জাত, ধর্ম, বর্ণ ও ক্ষমতার কঠিন ইটে।
আমি স্বপ্ন দেখি দেয়ালভাঙা পৃথিবীর,
যেখানে সাম্যের গান, এক আকাশের নিচে।
তুমি ইতিহাস লেখ শক্তের কালি দিয়ে,
আমি লিখি প্রতিবাদ—
রক্ত, ঘাম আর অশ্রুতে।
ইতিহাস জানে—
মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ নয়,
ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষই ।
আমি তখন মানুষ হয়ে কথা বলি,
আর তুমি সুবিধার কোলাহলে
শোনো না সেই স্বর।
শেষ পর্যন্ত মানুষই প্রশ্ন করে,
মানুষই বদলায়,
মানুষই টিকে থাকে।
মানুষই,মানবতাই।
আপন লোভের আয়নায়
আপন লোভে, আপন তরে,
আপন স্বার্থেই বিষাক্ত করেছি
জীবন-জগৎ।
মানুষের চোখে চোখ রেখে
মানুষকে আর দেখা হলো না,
দেখা হলো পরিচয়, দেখা হলো লাভ।
বড় হতে হতে
শিখে গেলাম কীভাবে আলাদা হতে হয়।
শিশু শিখল ভয়, নারী পেল অনিশ্চয়তা,
বৃদ্ধ বুঝল— সে এখন অপ্রয়োজনীয়।
নৈতিকতা হলো সুবিধার ভাষ্য, ধর্ম হলো দেয়াল,
দেশপ্রেম— নিজেকে বড় দেখানোর আয়না।
আজ প্রকৃতি ক্লান্ত,
সমাজ ক্লান্ত, মানুষ ক্লান্ত।
আমরা সবাই
নিজেদের ছাড়া আর কাউকে শুনিনি।
সহাবস্থানকে বদলে দিয়েছি দখলের ভাষায়,
কৃতজ্ঞতাকে রূপ দিয়েছি চাহিদার চাপে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
আমরা মুখ চিনি,
কিন্তু মুখের ভেতরের মানুষটাকে
আর চিনতে পারি না।
তবু আয়নাটা এখনো ভাঙেনি।
হয়তো একবার তাকালেই
বদলানো যেত সব।
প্রতিবাদকে বানিয়েছি অপরাধ,
প্রশ্ন করাকে করেছি দেশদ্রোহ,
সত্য বলাকে অসৌজন্য ঘোষণা করে
মিথ্যাকে বসিয়েছি ক্ষমতার সিংহাসনে।
আজ চারদিকে শুধু হিংসার চাষ,
অসহিষ্ণুতার ফসল,
আর আগুন—
কাউকে পোড়ায়, কাউকে নিঃশেষ করে।
আপন লোভে, আপন তরে,
আপন স্বার্থেই—যে বিষ ঢালছি আমরা,
শেষ পর্যন্ত
সেটাই পান করছি লোভের জ্ঞানে।









































