ব্রিটেনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আশির দশকের সিলেটের তুখোড় রাজনীতিবিদ,বাসদ নেতা ম. আ. মুক্তাদির এর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ম.আ. মুক্তাদির স্মৃতিকল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মাহফিল দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর লন্ডন সময় সন্ধ্যা ছয়ঘটিকায় পূর্বলন্ডনের ২০ কেমব্রিজহীথ রোডের একটি রেষ্টুরেন্টে বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা রাজনীতিবিদ জনাব গয়াছুর রহমান গয়াছের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল মালিক খোকন ও মোহাম্মদ শওকতের যৌথ পরিচালনায় ম. আ. মুক্তাদীরের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মেয়র রাখেন সেলিম উল্লাহ, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার, সাবেক কাউন্সিলার আহবাব হোসেন, ডাঃ গিয়াস উদ্দিন আহমদ, দারা মিয়া, অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক মনি, একাউন্টেন্ট তাজুল ইসলাম, রেদোয়ান খান, বজলুল হক, আব্দুল বাছির, আলা উদ্দিন আহমদ মুক্তা, আব্দুস সাত্তার, নওসাদ নূর, শাহীন আহমদ জায়েদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজ মৌলানা জিলু খান।
ম. আ মুক্তাদিরের সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
বর্ণবাদবিরোধী এই নেতার জন্ম ১৯৫২ সালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কদমতলী গ্রামে। পিতার নাম মরহুম মুসলিম মিয়া, পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ভাইবোনদের মধ্যে পঞ্চম ও ভাইদের মধ্যে চতুর্থ। প্রাইমারী স্কূলের গন্ডি পেরিয়ে তিনি রাজা জি সি হাই স্কূলে ভর্তি হন। একজন ভাল ক্রিয়াবিদ ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের প্রথমিক সদস্য পদ লাভ করেন। কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৬৭ ও ৬৮ সালে “দেশ ও কৃষ্টি” আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি এসএস সি পাশ করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভুখানে তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় সংগঠক । ১৯৭০ সালে মদন মহন কলেজ থেকে আই এ পাশ করেন। ১৯৭১ সালে বাঙ্গলাদেশের মহান স্বাধিনতা ও মুক্তি যুদ্বে যোগ দেন ! মেজর সি আর দত্তের নেতৃত্বে ৪নং সেক্টরে একজন সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন।
স্বাধিনতা উত্তর বাঙ্গলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্টার লক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এর জন্মলগ্নে ছাত্রলীগে যোগ দেন এই বর্ণবাদবিরোধী নেতা। ১৯৭৩ সালে জাসদ সংগঠনের বলিষ্ট সংগঠক হিসেবে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি এম সি কলেজ থেকে বি এ পরিক্ষা দেন। ১৯৭৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত সিলেটের ফুটবল জগতে হোয়াইট মোহামেডানের একজন সক্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা ক্রিয়া চক্রের খেলোয়াড় ছিলেন ।
১৯৭৬ সালে ৯ই জুন জাসদ রাজনীতির চরম দুর্দিনে তিনি জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মনোনীত হন। ১৯৭৭ সালে বাঙ্গলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন ! ১৯৮০ সালে বাসদ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা বাসদের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কিছুদিন বাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৪ সালে তিনি বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন ! ১৯৮৫ সালে তার এক পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। ১৯৮৬ সালে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান, লন্ডনে তিনি লেবার পার্টিতে যোগ দেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত হন এবং সমাজকর্মী হিসেবে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন।
তিনি প্রবাসীদের নায্য দাবি, সিলেট বিভাগ প্রতিষ্টার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সম্প্রদায়িক শক্তির বিরূদ্ধে ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি ঘোষিত আন্দোলনে প্রবাসী বাঙ্গালীদের সংগঠিত করেন, সৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে লন্ডনে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করেন, মুক্তিযুদ্ধর চেতনা মঞ্চের অন্যতম প্রতিষ্ঠা ও নেতা ছিলেন !
১৯৯৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার লন্ডনে বাংলাটাউন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে অংশ নেন, অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার পথে অসুস্থ বোধ করেন, সাথে সাথে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, চিকৎসাধীন অবস্তায় ১৪ই সেপ্টেম্বর লন্ডন সময় রাত ১০টায় রয়েল লন্ডন হাসপাতালে বর্ণবাদবিরোধী এই নেতা মৃতুবরণ করেন !






























































