অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার কমলেও ফুলে ফেঁপে উঠছে শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেমন ছাড় দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানকে, তেমনি চাইলেই নতুন নতুন লাইসেন্সও পাচ্ছে তারা। পূর্বতন সরকারের শাসনামলে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই রায় স্ব-প্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আদালত। শুধু তাই নয়, সবক্ষেত্রেই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। এমনকী, গ্রামীণে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ।
ব্রাজিল এর আদালত বলসোনারোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত নীতিতে বলা হয়েছে, নতুন কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁরা মঞ্জুরি দেবে না। কিন্তু ড. ইউনূসের হাত ধরে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি তৈরিকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঢাকার তুরাগের দিয়াবাড়ী দক্ষিণ এলাকায় তৈরি হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই অনুমোদন লাভ করল সংস্থাটি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে ড.ইউনূসের নিজের সংস্থা এতো দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমোদন পেল?
সম্প্রতি, পরিশোধ সেবাদানকারী (পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার-পিএসপি) প্রতিষ্ঠান হিসেবে চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড। এটিও গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। কোনও নিয়ম বা নীতির তোয়াক্কা না করে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানকে এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
পিএসপি সাধারণত ই-ওয়ালেট বা ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা নামে পরিচিত। এখানে হিসাব খোলার মাধ্যমে গ্রাহক তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ব্যাংক বা অন্য মাধ্যম থেকে টাকা এনে অনলাইন কেনাকাটা, পরিষেবা বিল পরিশোধ, টিউশন ফি পরিশোধসহ বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারেন। বাংলাদেশে এই পরিষেবাও শুরু হচ্ছে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। অনেক কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও গ্রামীণকেই দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ সুবিধা।
গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানওই কমিয়ে দিয়েছেন ড. ইউনূস। অর্থাৎ বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকে সরকার প্রভাব আরও খর্ব করা হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে এবং ব্যাংকের সুবিধাভোগীদের জন্য ৯০ শতাংশ রাখা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল অধ্যাদেশ সংশোধনী এনে সরকারের মালিকানা কমায় অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় সংসদ না থাকায় সরকারের কোনও জবাবদিহিতারও মাথাব্যাথা এখন নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। গত ২৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়েও জনগণের আস্থা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।
ড. ইউনূসের প্রভাব খাটিয়ে চলতি বছর জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে পেয়েছে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স। আর এপ্রিল মাসেই বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দিয়েছে।








































