বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো প্রচেষ্টা পশ্চিমা জোট ন্যাটো চালালে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে সতর্ক করেছে।
রয়টার্সের দেখা ন্যাটোকে পাঠানো একটি নথিতে মস্কো জোটের বিরুদ্ধে “বিপজ্জনক ও বেপরোয়া পদক্ষেপ” গ্রহণের অভিযোগ তুলেছে, যার ফলে “সরাসরি সশস্ত্র সংঘাত শুরুর উচ্চ ঝুঁকি” তৈরি হতে পারে।
নথিতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে “সংঘাত শুরুর শুরুতেই জোটের সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোর ওপর রাশিয়ার হামলার” সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
“ন্যাটো দেশগুলো যদি কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো প্রচেষ্টা চালায়, তবে নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্রসহ রাশিয়ার হাতে থাকা সমস্ত সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকবে,”—’নন-পেপার’ (কূটনৈতিক পরিভাষায় অনানুষ্ঠানিক নথি) হিসেবে চিহ্নিত ওই নথিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এই গোপন সতর্কবার্তা ছাড়াও, গত তিন দিনে অন্তত তিনটি ইউরোপীয় দেশে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বিবৃতি দিয়েছে। এসব বিবৃতিতে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সামরিক মহড়া এবং কালিনিনগ্রাদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে উত্তেজনা বৃদ্ধির অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপের জন্য রাশিয়া হুমকি—পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অভিযোগও মস্কো প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটো দেশগুলোর ওপর হামলার কোনো উদ্দেশ্য রাশিয়ার নেই; তবে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত এবং ভারী সামরিক উপস্থিতিসম্পন্ন রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার কঠোরতম জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই সতর্কবার্তাগুলো রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মহাদেশটিতে “হাইব্রিড যুদ্ধ” জোরদার করার অভিযোগ করে আসছে।
রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং কোনো ন্যাটো দেশের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা যে বারবার দাবি করে আসছেন, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে।
ন্যাটোর নিন্দা: ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক বাগাড়ম্বর’
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট নিশ্চিত করেছেন যে রাশিয়া জোটের কাছে একটি ‘নন-পেপার’ বা অনানুষ্ঠানিক নথি পাঠিয়েছে, তবে তিনি এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি। “আমরা একটি জবাব পাঠিয়েছি, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ন্যাটো একটি আত্মরক্ষামূলক জোট এবং আমাদের কোনো কার্যক্রম বা সামরিক মহড়া রাশিয়ার কোনো অংশের জন্যই হুমকি নয়। আমরা শক্তি প্রয়োগের হুমকি—যার মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক বাগাড়ম্বরও অন্তর্ভুক্ত—তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা ইউক্রেনে তাদের উসকানিবিহীন যুদ্ধ বন্ধ করে,” তিনি বলেন।
ইউরোপের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন: “স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথম রাশিয়া আমাদের এভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।”
ন্যাটোর একজন কূটনীতিক বলেন: “আমি বলব, রাশিয়ার পাঠানো ওই চিঠিটি ইউরোপীয়দের ভয় দেখানোর আরেকটি প্রচেষ্টা মাত্র এবং এ বিষয়ে ন্যাটোর জবাবটি দৃঢ় ও দায়িত্বশীল। এর মাধ্যমে পুনরায় নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, ইউক্রেনকে সহায়তা করার পথ থেকে আমরা সরে আসব না।”


































































