যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরে আটকে পড়া হাজার হাজার নাবিককে হরমুজ হয়ে সরানো এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বলেছেন জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থার প্রধান।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এথেন্সে পোসিডোনিয়া নৌপরিবহন শিল্প সপ্তাহ শুরুর আগে রবিবার রয়টার্সকে বলেন, “যতক্ষণ না মূল কারণগুলোর সমাধান করা হচ্ছে এবং সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি, যুদ্ধবিরতি বা পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারব না।”
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোতে আনুমানিক ২০,০০০ নাবিক রয়েছেন।
ডোমিঙ্গেজ বলেন, “এই মুহূর্তে নাবিকদের সরানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে, কারণ তাদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
আইএমও-র তথ্য অনুযায়ী, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরে এগারোজন নাবিক নিহত হয়েছেন।
ডোমিঙ্গেজ বলেছেন, জাহাজগুলোকে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে আইএমও একটি নিরাপদ সামুদ্রিক করিডোর তৈরির চেষ্টা করছে, যার মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওমানে ইরান-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, “ঘোষণা করা হয় যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে, এবং তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরও নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঝুঁকি নিতে পারি না।”
এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০% সরবরাহ হয়ে থাকে, কিন্তু এখন হাতেগোনা কয়েকটি ট্যাংকারের চলাচলে তা কমে গেছে।
জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, তিন মাস আটকে থাকার পর জাহাজের নাবিকদের আলোচনার মাধ্যমে একটি নিরাপদ পথ প্রয়োজন।
“জাহাজের নাবিকেরা শুধু তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগই হারাচ্ছেন না, বরং জন্ম, মৃত্যু, বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন,” সোমবার এথেন্সে ক্যাপিটাল লিঙ্ক শিপিং সম্মেলনের এক ফাঁকে রয়টার্সকে একথা বলেন হাইডমার মেরিটাইম হোল্ডিংস কর্পোরেশনের সিইও পঙ্কজ খান্না।
তিনি বলেন, হাইডমারের একটি জাহাজ তিন মাস ধরে উপসাগরে আটকে আছে।
“আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো একটি কাঠামো, নিয়মকানুন, বিধিমালা, যা কিছু আমাদের স্পষ্টভাবে বলে দেবে কীভাবে আমরা প্রবেশ করতে এবং বের হতে পারব। তাই একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।”


























































