বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের চলমান মানবাধিকার ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক বিবেককে নাড়া দিচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ধ্বংস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নিপীড়নের চিত্র উঠে এসেছে। নারী ও শিশুরা এই সহিংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।
মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এগুলো সংগঠিত ও ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন, তার প্রকাশ্য নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়, অন্যায়ের মুখে নীরবতা কখনোই নিরপেক্ষতা নয়; বরং এটি একটি নৈতিক অবস্থান, যার গুরুতর পরিণতি রয়েছে। শান্তি সেখানে টিকে থাকতে পারে না, যেখানে ভয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিয়ন্ত্রণ করে, এবং যেখানে মৌলিক অধিকার পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘিত হয়, সেখানে নিরপেক্ষতার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের নৈতিক মর্যাদা রক্ষায় নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি ও নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রতি স্বচ্ছতা, নৈতিক স্পষ্টতা এবং মানবিক দুর্ভোগের মুখে সাহসী অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান স্বাক্ষরকারীরা। চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ভুক্তভোগীরা স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবিদার। বিশ্ব বিবেক দায়িত্ব এড়াতে পারে না, এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারকে অবশ্যই নীরবতার নয়, ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে থাকতে হবে। চিঠির শেষে মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মানব মর্যাদা যখন চরমভাবে হুমকির মুখে, তখন নোবেল কমিটি মানবতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চিঠিতে রেভারেন্ড ড. রবার্ট বি. ল্যান্সিয়া, সাবেক আইনপ্রণেতা, রোড আইল্যান্ড হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস, যুক্তরাষ্ট্র; পাওলো কাসাকা, প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম; ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, যোগাযোগ পরিচালক, ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরাম, যুক্তরাজ্য; অ্যালান রাইডস, পরিচালক, ওয়েস্ট লন্ডন চেম্বার অব কমার্স, যুক্তরাজ্য; নাটালিয়া সিনিয়ায়েভা, প্রতিনিধি, “নেভার এগেইন” অ্যাসোসিয়েশন, পোল্যান্ড; শার্লট জ্যাকমার্ট, সিনিয়র সম্পাদক, শুইজার রেডিও উন্ড ফের্নজেন (এসআরএফ), সুইজারল্যান্ড; প্রিয়জিৎ দেবসরকার, প্রধান সম্পাদক, ব্রিজ বাংলা ফাউন্ডেশন, যুক্তরাজ্য; এবং অধ্যাপক ড. মো. হাবিবে মিল্লাত, সভাপতি, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স, কানাডা স্বাক্ষর করেন।









































