বিয়ের পরপর “মা”
হওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা প্রতিনিয়ত আমাকে তাড়িত করে ।
একে একে চার সন্তানের মা হই।
৩ টি ছেলে সন্তান এবং আমার মত একটি মেয়ে ।
এদের লালন- পালন করতে, বড় করতে কত যে বিনিদ্র রজনী কেটেছে তার হিসেব নেই ।
পরীক্ষার ফল ভালো করার জন্যে ওদের সাথে রাত জেগে ওদের সময় দিয়েছি ।
ওরা নিজ নিজ জায়গায় সন্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।
আমার আনন্দের, খুশীর সীমা নেই ।
আমার এই সফলতা,আমার গর্বের জায়গা সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিভিন্ন সংস্থা আমাকে সফল মা এবং স্বর্নগর্ভা
উপাধিতে ভূষিত করেছে ।
আজ আমি দুক্ষ বলবো -না কস্ট বলবো ।
নাহ্ – আবার আমারও তো বুঝতে হবে ।
ওদের ব্যস্ত জীবনে আমার খবরাখবর নেয়ার সময় কই?
তবে হ্যাঁ- আমাকে কল করা, কুশল সংবাদ নেয়ার কোনো ফুরসত নেই ।
এটা আমি বিশ্বাস করলাম ।
কিন্তু, ঈদের দিন বা ২-১ দিন পর একটু সময় হয় না?
আর মেয়েটি আমার খুবই আদরের ।
৩ টি ছেলের পরে মেয়ে হয়েছে তো!
খুবই আদর যত্নে ,ভালোবাসায় লালন করেছি ।
মেয়েটি কিন্তু আমার পাশেই থাকে ।
কিন্তু ও একেবারেই সময় পায় না ।
আমি তো মা, বুঝি!
গত কয়দিন ধরে আমার শরীর খারাপ , এর মাঝে ঈদ গেলো ।
ব্যাস্ততার জন্য আমার ছেলেমেয়েরা সময় পায়নি ।
কখন যে মারা গেছি বুঝতে পারিনি ।
৭-৮ দিন পর আমার মেয়ে একজন নার্স কে নিয়ে এসেছে, আমার সেবার জন্য ।
শত হলেও মেয়ে, পেটে ধরেছি, অস্বীকার করে কি করে?
নার্স আমার রুমে এসে দেখলো ।
আমি পচে গলে মরে আছি ।
গায়ে পোকা কিলবিল করছে, দুর্গন্ধ সারা রুমে, নাকে কাপড় দিয়ে ঢুকতে হয়।
আমিতো আমার মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি- যথেষ্ট বুদ্ধিমতি।
মসজিদ কমিটির একজনকে লাশ ধোয়ার জন্য ডেকে পাঠালো।
মহিলা লাশ দেখে বললো, আমি এটা পারব না ।
আমার মেয়ে মোটা অঙ্কের টাকা অফার করলো ।
মহিলা বললো আমি তো টাকার জন্য একাজ করি না ।
ইতিমধ্যে কেউ একজন ৯৯৯ এ কল করলো ।
দেখেনতো ছেলেমেয়েদেরকে কি একটা ঝামেলায় ফেললাম!
এখন নাকি সরকারি ভাবে ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে!
দেখেনতো-
আমি কি এমনটা চেয়েছি?
আমি চাই-
আমার ছেলেমেয়েরা থাকুক দুধে- ভাতে ।
এটা আমার সফলতার গল্প ।

























































