এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখোনি তুমি,
একটি সকালেই সূর্য রক্তচক্ষু হয়ে ওঠে,
শিশুর হাতের খেলনা পাখি
হঠাৎই যুদ্ধের দিকনির্দেশনা হয়ে যায়।
ভাতের হাঁড়িতে শব্দ করে ওঠে না শুধু চাল,
ওঠে চাপা কান্না,
মায়ের বুকের ভেতর জমে থাকা
অগণিত রাতের বিস্ফোরণ।
এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখোনি তুমি।
এখানে রাস্তা শুধু রাস্তা নয়,
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
নামহীন শহীদের ছায়া।
দেয়াল মানে শুধু ইট নয়—
পিঠ ঠেকে থাকা স্বপ্ন,
পোস্টারের নিচে চাপা পড়া মুখ,
আর চোখের ভাষায় লেখা
অসমাপ্ত স্বাধীনতা।
এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখোনি তুমি,
কখনো দেখেনি কেউ।
এখানে মাঠ মানে শুধু ফসল নয়,
মাঠে মাঠে ঘুমিয়ে আছে
অজস্র শেষ কথা।
ধানের শীষে শীষে লেগে থাকে
বারুদের গন্ধ,
আর শিশির নয়—
ভোরে ভোরে নামে
নীরব ভয়।
বৃক্ষ এখানে বৃক্ষ নয়,
প্রতিটি গাছ এক একটি সাক্ষী,
মূলের ভেতর লুকিয়ে রাখা
চিৎকারের দলিল।
পাতা ঝরে না শুধু ঋতুতে,
ঝরে যায় মানুষের নাম,
তারিখ, পরিচয়।
এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখোনি তুমি।
এখানে প্রেম শুধু প্রেম নয়,
প্রেম মানে অপেক্ষা,
প্রেম মানে না-ফেরা,
প্রেম মানে এক জোড়া চটি
নদীর ধারে অনাথ পড়ে থাকা।
চিঠি মানে শুধু কাগজ নয়,
চিঠি মানে শেষ খবর,
শেষ শ্বাসের বানান।
আজকাল নীরবতা শুধু নীরবতা নয়,
নীরবতা মানে
সবাই জেনে গেছে—
কিন্তু কেউ বেঁচে থাকার ভাষা খুঁজছে।
এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখোনি তুমি,
এখানে আগুনেরও স্মৃতি আছে,
পানিরও ক্ষত আছে,
আর মানুষের বুকের ভেতর
একটি দেশ প্রতিদিন
নতুন করে পুড়ে যায়।
তুমিই তার প্রথম দর্শক,
আর শেষ প্রশ্ন।







