পর্তুগালের রাজধানী লিজবর্নে অনুষ্ঠিত অভিবাসন সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৬ এর রানার্স আপ হয়ে, তামিল সাংবাদিক হামশিকা কৃষ্ণমূর্তি সাউথ এশিয়ানদের মুখ উজ্বল করেছেন।
২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ৪৪টিরও বেশি দেশ থেকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ৮০০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়ে: বিশেষ প্রতিবেদন পুরস্কার, উদ্ভাবন পুরস্কার, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার, অভিবাসন সাংবাদিকতা পুরস্কার জনপরিসর পুরস্কার পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো, বিশেষ উৎকর্ষের জন্য বিচারকদের একটি বিশেষ পুরস্কার প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তুতি কমিটি, প্রতিটি জমা দেয়া লেখা থেকে ২৫টি রচনার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন, যা এপ্রিল মাসে পেরুজায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা উৎসবে ঘোষণা করা হয়। এরপর বিচারক প্যানেল বিজয়ী ও রানার্স আপদের নির্বাচন করে, যা ৩জুন রাতে লিসবনে ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
প্রস্তুতি কমিটি প্রতিটি জমা দেয়া লেখা পড়ে ২৫টি রচনার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন, যা এপ্রিল মাসে পেরুজায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা উৎসবে ঘোষণা করা হয়। এরপর বিচারক প্যানেল বিজয়ী ও রানার-আপদের নির্বাচন করেন। যা ৩জুন রাতে লিসবনে ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। ৩ জুন ক্যালুস্ত গুলবেনকিয়ান ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় প্রেস পুরস্কার লিসবন ২০২৬ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি পুরস্কারের মূল্য ১০,০০০ ইউরো, যা যথাসম্ভব এমন কোনো ব্যক্তিগত প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে, যা ফলস্বরূপ সাংবাদিকতার চর্চাকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
সম্মাননা ও পুরস্কার হাতে নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে হামশিকা কৃষ্ণমূর্তি বলেন শ্রীলঙ্কায় বেড়ে ওঠার সময় আমি দারিদ্র্য, অর্থকষ্ট, অবহেলা এবং অসংখ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছি। সাংবাদিকতা পেশায় একজন নারী হিসেবে আমি সন্দেহ, অবহেলা অপবাদ এবং সমালোচনার শিকার হয়েছি। অনেকেই আমাকে বলেছিল আমি কখনো সফল হতে পারব না। অনেকে আমার স্বপ্নকে অবমূল্যায়ন করেছিল। কিন্তু প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছিল। প্রতিটি ব্যর্থতা শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। যখন আমি ভেঙে পড়েছিলাম, তখন নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়েছি। আমি নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে, নিজের স্বপ্নকে বিশ্বাস করতে এবং কঠোর পরিশ্রমের উপর নির্ভর করতে শিখেছি। পথচলা যতই কঠিন হোক না কেন, আমি কখনো হাল ছাড়িনি।
আজ আমি ইউরোপীয় প্রেস পুরস্কার ২০২৬-এর মাইগ্রেশন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডে রানার-আপ হিসেবে সম্মানিত প্রথম তামিল সাংবাদিক হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে গর্বিত। হামশিকা কৃষ্ণমূর্তি প্রথম শ্রীলংকান এবং এশিয়ানদের মধ্যো দ্বিতীয় সাংবাদিক, যিনি ইউরেপীয়ান প্রেস এওয়ার্ড এবং অভিবাসন সাংবদিকতায় রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
হামশিকা অভিবাসন পথ, শরণার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং মানবিক বিষয়াবলী নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকল্প ও প্রকাশনায় অবদান রেখেছেন। তার কাজ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি অভিবাসন, আশ্রয় এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার তামিলদের যুদ্ধ-পরবর্তী জীবন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে এমন বৃহত্তর মানবাধিকার বিষয়গুলোও নথিভুক্ত করেছেন। হামশিকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরতে এবং এমন সাংবাদিকতা তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা জবাবদিহিতা, বোঝাপড়া ও সামাজিক প্রভাবকে উৎসাহিত করে। তিনি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মানবিক সংকট, অভিবাসন, সংঘাত এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করে চলেছেন।





























































