যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো মিত্ররা সোমবার জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনায় অংশ নেবে না, যা ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে ওঠা এই জোটের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের সংঘাত নিরসনে সপ্তাহান্তের আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই জলপথে সমস্ত সামুদ্রিক যান চলাচল বন্ধ করতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী পরে নির্দিষ্ট করে জানায়, সোমবার ১৪০০ জিএমটি-তে শুরু হতে যাওয়া এই অবরোধটি শুধুমাত্র ইরানের বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
রবিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “অবরোধটি শীঘ্রই শুরু হবে। এই অবরোধে অন্যান্য দেশও জড়িত থাকবে।”
কিন্তু ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ন্যাটোর মিত্ররা বলেছে, তারা এই অবরোধে অংশ নিয়ে সংঘাতে জড়াবে না। বরং তারা বলেছে, যে জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল আসে, সেটি খুলে দেওয়া অত্যাবশ্যক। ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে সেই জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে।
তাদের এই অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের আরও একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প এই সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং ইউরোপ থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথাও ভাবছেন। কারণ, বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন সামরিক বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সমর্থন দিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
প্রচুর চাপ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিবিসিকে বলেন, “আমরা এই অবরোধ সমর্থন করছি না।”
তিনি বলেন, “আমার সিদ্ধান্ত খুব স্পষ্ট যে, চাপ যতই আসুক না কেন, এবং বেশ ভালোই চাপ এসেছে, আমরা এই যুদ্ধে জড়াবো না।”
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ইউরোপীয় সরকারগুলোকে বলেছেন, ট্রাম্প অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে সহায়তার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চান, গত সপ্তাহে কূটনীতিকরা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন।
রুটে ৯ এপ্রিল বলেন, যদি ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশ একটি মিশন গঠনে একমত হতে পারে, তবে সংস্থাটি এই প্রণালীতে ভূমিকা রাখতে পারে। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ বলেছে তারা প্রণালীতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক, তবে শর্ত হলো সংঘাতের একটি স্থায়ী অবসান হতে হবে এবং ইরানের সাথে এই মর্মে একটি চুক্তি হতে হবে তাদের জাহাজগুলো আক্রান্ত হবে না।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার এক্স-এ বলেছেন, প্রণালীতে নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বহুজাতিক মিশন তৈরি করতে ফ্রান্স ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশের সাথে একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, “সংঘর্ষকারী পক্ষগুলো থেকে স্বতন্ত্র এই কঠোরভাবে প্রতিরক্ষামূলক মিশনটি পরিস্থিতি অনুকূল হলেই মোতায়েন করা হবে।”
যুদ্ধবিরতি ঘটলে প্রণালীটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য বীমার প্রিমিয়াম কমানোর উপায় নিয়ে ব্রিটেন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন একজন ঊর্ধ্বতন ইউরোপীয় কর্মকর্তা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সোমবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালী কূটনীতির মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, এর তত্ত্বাবধানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করা জটিল হবে। একইসাথে তিনি জুলাই মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার আহ্বান জানান।









































