আমেরিকা অত্যন্ত নির্মমভাবে ব্রাজিলকে শাস্তি দিল। ব্রাজিলের অপরাধ কিন্তু কোনো বাণিজ্যিক গোলমাল ছিল না,তার আসল অপরাধ ছিল —-‘বন্ধুত্ব’!
•~ ট্রাম্প আজ ব্রাজিল থেকে আমেরিকায় আমদানিকৃত সমস্ত পণ্যের ওপর চড়া হারে নতুন শুল্ক বা ট্যাক্স বসিয়েছে।
•~ খাতার কাগজের অফিশিয়াল কারণ হিসেবে অবশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার হরেক রকম অজুহাত দাঁড় করানো হয়েছে।
•~ কিন্তু আসল সত্যটা কোনোদিনও সেই সরকারি কাগজের পাতায় লেখা থাকে না।
•~ ব্রাজিলের আসল ‘ক্রাইম’ ছিল -বিগত কয়েক বছর ধরে দেশটি পর্দার আড়ালে কার সাথে নিজেদের ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছিল।
•~ আর এই ঘনিষ্ঠতার রাস্তাটি ঠিক সেই মোড় দিয়েই গেছে, যা নিয়ে খোদ আমেরিকার ভয়ের কোনো শেষ নেই।
•~ ওয়াশিংটনের সেই ভয়টা কোন জায়গায়? –
•~ এই নাটকের মূল অংকটা বুঝতে হলে সবার আগে নজর দিতে হবে ‘চীন’-এর চালের দিকে, কারণ এই ঝামেলার আসল বীজটি লুকিয়ে আছে ঠিক ওখানেই।
•~ চীন কিন্তু আমেরিকার সাথে ভুলেও কখনো সরাসরি কোনো সম্মুখ যুদ্ধে বা কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত হয় না।
•~ তারা অহেতুক চিৎকার-চেঁচামেচি করে না, কিংবা ফাঁকা সামরিক হুমকিও দেয় না। তার বদলে তারা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, নীরবে এবং দীর্ঘ মেয়াদী ধৈর্যের সাথে এক মারাত্মক খেলা খেলছে: তারা বিশ্বমঞ্চে এমন এক নতুন বাণিজ্যিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে –যেখানে খোদ আমেরিকার বা তার ডলারের কোনো অস্তিত্ব বা প্রয়োজনই নেই!
•~ বেইজিং বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোকে এক এক করে নিজেদের তাঁবুতে টেনে নিচ্ছে এবং তাদের প্রত্যেকেকে একটি মাত্র লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছে:
“তোমরা যদি আমার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাও, তবে তোমাদের পকেটে জোর করে মার্কিন ডলার মজুত রাখার কোনো দরকার নেই; আমরা চাইলে সরাসরি আমাদের নিজেদের দেশীয় মুদ্রা দিয়েই সমস্ত লেনদেন চুকিয়ে ফেলতে পারি।”
•~ আর চীনের এই এক চিলতে প্রস্তাবই আজ দাবানলের মতো গোটা বিশ্বে দাউ দাউ করছে।
•~ আজ রাশিয়া এবং চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রায় শতভাগ লেনদেনই সম্পন্ন হচ্ছে সম্পূর্ণ ‘ডলার-বিহীন’ উপায়ে।
•~ খোদ সৌদি আরব –যারা হলো গোটা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের রপ্তানিকারক -তারাও এখন ডলারের মায়াজাল ছিন্ন করে চীনের কাছে নিজেদের তেল সরাসরি চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ -এর বিনিময়ে বিক্রি করা শুরু করেছে।
•~ শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ‘সুইফট’ ব্যবস্থার একচেটিয়া মার্কিন দাপটকে গুঁড়িয়ে দিতে চীন ইতিমধ্যেই নিজেদের সমান্তরাল ও স্বাধীন আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করে দিয়েছে।
•~ ওদিকে ‘ব্রিকস’ (BRICS) নামক উদীয়মান পরাশক্তিদের জোটটি দিন দিন দানবীয় রূপ নিচ্ছে, যেখানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের মতো চিরবৈরী দেশগুলোও আজ এক ছাতার নিচে এসে হাত মেলাচ্ছে।
•~ সহজ কথায়, চীন এক একটি রাষ্ট্রকে ধরে ধরে, আমেরিকার বিশ্বজয়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার অর্থাৎ ‘ডলার’ থেকে পুরো পৃথিবীকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন (De-dollarization) করে দিচ্ছে।
•~ আর ব্রাজিলের মতো লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিও আজ চীনের তৈরি করা সেই ডলার-মুক্ত শৃঙ্খলে নিজেদের নাম লিখিয়েছে।
•~ বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ব্রাজিল তাদের মোট চীনা বাণিজ্যের সিংহভাগই সম্পন্ন করছে কোনো প্রকার ডলারের ছোঁয়া ছাড়াই। শুধু এই একটি বাণিজ্যিক রুট থেকেই প্রতি বছর প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন মার্কিন ডলারের খাতা থেকে চিরতরে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে!
•~ কিন্তু প্রশ্ন হলো -এই কাগজের ডলার আমেরিকার জন্য এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন?
•~ কারণ আমেরিকাকে গোটা দুনিয়ার ‘জগদ্দল পাথর’ বা মুরুব্বি বানিয়ে রাখার পেছনে তাদের বিশাল সেনাবাহিনী বা পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় অবদান হলো এই ডলারের।
আজ বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেনই সম্পন্ন হয় ডলারের হাত ধরে। দুনিয়ার তেল কেনা হয় ডলারে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি হয় ডলারে।
আর ঠিক এই কারণেই বিশ্বের প্রতিটি দেশকে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভল্টে ডলারের পাহাড় জমা রাখতে হয় এবং আমেরিকার মুখাপেক্ষী হয়ে বেঁচে থাকতে হয়।
•~ বিশ্ববাসীর এই চরম অসহায়ত্ব বা পরনির্ভরশীলতা ওয়াশিংটনকে মূলত দুটি অসীম ক্ষমতার চাবিকাঠি এনে দেয়।
প্রথমত, আমেরিকা চাইলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিজেদের ইচ্ছামতো ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ নিতে পারে, কারণ তারা জানে গোটা বিশ্ব তাদের কাগজের মুদ্রাকে লুফে নেওয়ার জন্য হাঁ করে বসে আছে।
•~ আর দ্বিতীয় ক্ষমতাটি হলো -মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে স্রেফ একটি কলমের খোঁচায় যেকোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে তাকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ভাতে মারতে পারেন।
•~ আর ঠিক এই কারণেই -বিশ্বের যেকোনো কোণায় যখনই ডলার ছাড়া একটি মাত্র বাণিজ্যও সম্পন্ন হয়, তখন আমেরিকার সেই অসীম ক্ষমতার সাম্রাজ্যের দেয়ালে ছোট একটি ফাটল দেখা দেয়। চীন মূলত বিশ্বজুড়ে ঠিক সেই ফাটলগুলোর সংখ্যাই প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলেছে।
•~ এবার আমরা এই কাহিনীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি।ইতিহাস সাক্ষী -যে-ই এই ডলারের রাজত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বিদায় নিতে চেয়েছে, তার কপালে আমেরিকার পক্ষ থেকে নেমে এসেছে চরম ও বীভৎস পরিণতি।
•~ একটু ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখুন
•~ ২০۰۰ সালে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেন ঘোষণা করেছিলেন, তিনি তাঁর দেশের তেল আর মার্কিন ডলারে নয়, বরং ইউরোপীয় মুদ্রা ‘ইউরো’র বিনিময়ে বিক্রি করবেন।
আর তার ঠিক তিন বছরের মাথায় মার্কিন বাহিনী ইরাক আক্রমণ করে, পুরো দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে এবং সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলায়।
•~ ২০১১ সালে লিবিয়ার রাষ্ট্রনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফি পুরো আফ্রিকা মহাদেশের জন্য সোনা-ভিত্তিক একটি স্বাধীন কারেন্সি বা মুদ্রা (Gold Dinar) চালুর মহাপরিকল্পনা করেছিলেন,
যা আফ্রিকাকে ডলারের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিত। আর ঠিক সেই বছরেই পশ্চিমা বোমাবর্ষণে তিনি তাঁর ক্ষমতা এবং জীবন -দুটিই একসাথে হারান।
•~ ওদিকে ইরান যখনই ডলারকে প্রত্যাখ্যান করে অন্য মুদ্রায় তেল বিক্রির চেষ্টা করেছে, তার খেসারত হিসেবে তাদের ওপর চাপানো হয়েছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য ও কঠোর তম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
•~ এই প্রতিটি ঘটনার পেছনের আসল মিলটি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন?
সবার একমাত্র অপরাধ ছিল –ডলারের পিঠে ছুরি মেরে নিজেদের স্বাধীন রাস্তা খোঁজা।
•~ বিগত ২৫ বছর ধরে বিশ্ববাসীর প্রতি ওয়াশিংটনের বার্তাটি একদম পরিষ্কার এবং অপরিবর্তিত:
•।।।।।। “যে-ই ডলারের মায়াজাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধৃষ্টতা দেখাবে, তাকে তার চড়া মূল্য নিজের রক্ত দিয়ে শোধ করতে হবে।”।।।।।•
•~ আর ব্রাজিলও আজ অজান্তেই আমেরিকার সেই ‘হিট লিস্ট’ বা কালো তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছে। তবে এবার আমেরিকার খেলার স্টাইল বা পদ্ধতিটি একটু ভিন্ন।
সাদ্দামকে মারতে পাঠানো হয়েছিল সাঁজোয়া ট্যাংক, গাদ্দাফির ওপর ফেলা হয়েছিল ঝাঁকে ঝাঁকে বোমা; আর ব্রাজিলের জন্য ট্রাম্প কেবল এক চিলতে চড়া ট্যাক্সের ফরমান জারি করেছে।
•~ কারণ ব্রাজিল কিন্তু আক্ষরিক অর্থে আমেরিকার কোনো কট্টর শত্রু দেশ নয়, সে হলো মূলত হাত থেকে ফস্কে যেতে থাকা এক পুরনো দোস্ত বা বন্ধু। তাই তাকে ধ্বংস করতে কোনো যুদ্ধবিমান পাঠানো হচ্ছে না, পাঠানো হচ্ছে স্রেফ একটি কড়া হুঁশিয়ারি বা ওয়ার্নিং শট।
•~ কিন্তু এখানে একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায় :
এই ডলার-বিরোধী ব্যবস্থার আসল মাস্টারমাইন্ড যদি খোদ চীন হয়ে থাকে,তবে ওয়াশিংটন চীনকে ছেড়ে কেন বারবার ব্রাজিলের মতো দেশকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে?
•~ কারণ চীনের গায়ে সরাসরি হাত দেওয়ার বা ঘাঁটানোর কোনো ক্ষমতা আজ আমেরিকার নেই।
•~ চীন আজ অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এতটাই দানবীয় শক্তিশালী যে –তুমি যদি তাকে এক আঘাত করো, সে মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা মারাত্মক পাল্টা আঘাত হানবে, যা খোদ আমেরিকার নিজের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেই তাসের ঘরের মতো কাঁপিয়ে দেবে।
আর তাই প্রবাদ আছে –
যেখানে দড়ির মূল গোড়া ধরে টান দেওয়াতে মরণঝুঁকি থাকে, সেখানে চতুর শিকারী দড়ির শেষ প্রান্তে থাকা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অংশটি ধরেই টান মারে।
•~ পুরো বিষয়টাকে আপনি এক দড়ি টানাটানি খেলার মতো করে ভাবতে পারেন –
•~ যেখানে দড়ির এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে আমেরিকা, অন্য প্রান্তে চীন; আর মাঝখানের সেই টানটান দড়িটি হলো ব্রাজিলের মতো উদীয়মান দেশগুলো।
চীন ব্রাজিলকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছিল, আর আমেরিকা আজ এক ঝটকায় চড়া শুল্কের এক থাপ্পড় মেরে ব্রাজিলকে পুনরায় নিজেদের লাইনে টেনে নিয়ে এলো।
•~ এর মাধ্যমে আমেরিকা এক ঢিলে দুই পাখি মারল -একদিকে যেমন ব্রাজিলকে জোর করে লাইনে সোজা করা গেল, ঠিক তেমনি ব্রাজিলের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি বিশ্বকেও এক চরম পরোক্ষ হুমকি দিয়ে রাখা গেল।
•~ তবে এখানে অতিরঞ্জিত করার কিছু নেই।
•~ মার্কিন ডলার কিন্তু স্রেফ এক রাতের ব্যবধানে বা আগামীকাল সকালেই ধসে পড়ে যাবে না। আন্তর্জাতিক অর্থ বাজারে রাতারাতি কোনো মহাবিপর্যয় ঘটছে না, ঘটছে মূলত অত্যন্ত ধীর ও সূক্ষ্মগতিতে।
•~ কিন্তু আমেরিকার রাতের ঘুম হারাম করার জন্য এই ‘ধীরগতি’টুকুই যথেষ্ট। কারণ পৃথিবীর কোনো বড় সাম্রাজ্য বা পরাশক্তি এক দিনে বিলীন হয় না; তার পতন ঠিক এইভাবেই শুরু হয় -এক একটি রাষ্ট্র হাতছাড়া হওয়ার মাধ্যমে, দেয়ালে এক একটি ছোট ছোট অদৃশ্য ফাটল ধরার মাধ্যমে।
•~ এবার পুরো ছকটা একসাথে মিলিয়ে দেখুন —
•~ মঞ্চের একদম সামনে সাধারণ মানুষের চোখের সামনে কেবল ব্রাজিলের ওপর চাপানো সামান্য কিছু শুল্ক বা ট্যাক্সের খবর ভাসছে।
•~ কিন্তু পর্দার আড়ালে আজ গোটা বিশ্ব এক মহা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ধুঁকছে: এই পৃথিবী কি আগামী দিনেও আমেরিকার তৈরি করা এই ডলারের দাসত্বেই বন্দি থাকবে, নাকি চীনের নীরবে বুনে যাওয়া সেই নতুন ও স্বাধীন অর্থনৈতিক বলয়ে নিজেদের সঁপে দেবে?
•~ সাদ্দাম হোসেন থেকে শুরু করে আজকের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লূলা পর্যন্ত -বিগত অর্ধশতাব্দীতে আমেরিকার একটি মাত্র লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’ বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হয়নি; আর তা হলো
-কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং তাদের ছাপানো কাগজের টাকা!
•~ কারণ দিনশেষে একটি বিশ্ব সাম্রাজ্য বা ইম্পেরিয়ালিজমকে কখনো শুধু তার সেনাবাহিনীর আকার দিয়ে টিকিয়ে রাখা যায় না।
•~ তার আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে ঠিক তখনই -যখন এই গোটা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে বাধ্য হয়ে, নিজের পকেট কেটে কেবল তারই মুদ্রা ব্যবহার করতে হয়।
•~ আর সেই বাধ্যতামূলক নিয়মের দেয়ালে যেদিন প্রথম বড় কোনো চির ধরে, ঠিক সেদিন থেকেই খোদ সেই মহাশক্তিশালী সাম্রাজ্যেরও উল্টো গণনা শুরু হয়ে যায়!
জুনায়েদ হারুন, কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ইসলামী চিন্তাধারা ও সভ্যতা বিষয়ে অধ্যয়নরত।


























































