ইফতেখারের খুব শখ একটা নতুন গাড়ী কেনার যদিও তার গাড়ী আছে তারপরও আর একটা স্পোর্টস কার না হলে তার চলছেই না। তার বাবা- মা স্পোর্টস কার (গাড়ী) কিনতে দিতে রাজী নন। একদিন সত্যি সত্যি ইফতেখার গাড়ীর দোকান থেকে তার পছন্দের গাড়ী কিনে নিয়ে এলো।
অভিভাবকরা দেখলো ছেলে এখন লায়েক হয়েছে তাই কিছু বল্লে বিগড়ে যেতে পারে এই কারনে তারা ভাল- মন্দ কিছুই বল্লো না এবং জানতেও চাইলো না। এখন টইফতেখারের মন খুশ, পুরানো গাড়ীতে সে আর উঠে না নতুন কেনা গাড়ীতেই ঘুরে- বেডায়। মাঝে মধ্যে বন্ধুদের সাথে রেসের প্রতিযোগিতা করে। গতি বুঝে এখন সে আর গাড়ী চালায় না, স্পীডে চালাতেই সে পছন্দ করে, কিন্ত এই বেপরোয়া গাড়ী চালানোর জন্য কয়েকবার টিকিট খেয়েছে। রেড লাইট উপেক্ষা করে দ্রত গতিতে গাড়ী চালিয়ে চলে গেছে তাই এ সব পুলিসের রেকর্ডে আছে। একদিন তার বাবা ছেলেকে ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো স্পোর্টস কার বাদ দিয়ে নতুন আর একটি গাড়ী নিতে। কিন্ত ছেলে তো আর বুঝতে চায় না। বাবা বুঝে গেলেন ছেলের ঘোড়া রোগে পেয়েছে তাই হাল ছেড়ে দিলেন।
কদিন পরেই খবর পেলেন তার ছেলে হাসপাতালে। মায়ের মন সে আজই স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের বাসায় কোন একটা দূর্ঘটনা ঘটতে চলেছে, তাই হঠাৎ ছেলে হাসপাতালে যেনে চট জলদি ড্রাইভারকে ডেকে গাড়ী বের করতে বল্লেন। হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান ইফতেখারকে। তাকে চেনাই দাঁয়, সর্ব শরীরে ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে ফেলেছে। চেনার কোন উপায় নাই। পা দুইটি খাটের সাথে বাধা, হাত দুইটির ও একই অবস্থা। মাতো হাউ মাউ করে কান্না ঝুরে দিলেন, নার্স এসে কোন রকম আওয়াজ যেনো না হয় তাই সর্তক করে গেলেন। কিছুক্ষণ পর বাবা এসে নিজের ছেলেকে এই অবস্হায় দেখে বিচলিত হলেন এবং তখন তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন আর কোন স্পোর্টস গাড়ী বাসায় থাকবে না।
ধীরে ধীরে ইফতেখার সুস্থ হয়ে উঠলো। ভাল হয়েই সে তার গাড়ীর খোঁজ খবর নিলো। যখন শুনলো সেই গাড়ী বিক্রি করে দিয়েছে তার বাবা, তখন সে ভীষন বিরক্ত হলো।
কিন্ত ওদিকে বাবাতো সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল ও অনড়, মাও তাই। মা ভাবেন, গাড়ি যখন আছে তখন নিজে না চালিয়ে ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ী চালালেইতো হয়। ছেলে পিছনের সীটে বাবু সাহেব হয়ে বসে থাকবে। এরকম কত ভাবনাই না ভাবেন। কিন্ত ছেলেতো আর ছোট নয় যে সে এসব বুঝবে। একদিন এক ভাবী এসে তার বান্ধবীকে বুদ্ধি দিয়ে গেলো, ছেলেকে বিয়ে দিয়ে দেন দেখবেন সব পাগলামী এক নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেছে। অতএব ইফতেখারের মা বিয়ে দেবার জন্য মেয়ে খুঁজতে লাগলেন, শেষে একজনকে খুব পচ্ছন্দ হলো। আর দেরী না করে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার সব ব্যাবস্থা করে ফেল্লেন। দিন তারিখ দেখে ছেলের বিয়ে হয়ে গেলো। পরে মা ভেবে দেখলেন এত সহজ পথ থাকতে কেন তারা ছেলের মনভাব বুঝতে পারলো না। পরে হঠাৎ তার মনে পড়লো এর আগে চেষ্টা হয়েঁছিল বিয়ের কিন্ত ছেলে কিছুতেই রাজী ছিল না, তাই তাদের মাথা থেকে এই সহজ উপায়টি বের হয়ে গিয়েছিলো।
বিয়ের পর ইফতেখার আর তার বৌ মাঝেমধ্যে গাড়ীতেই ঘোরাফেরা করে। বাবা মা খুব খুশী। এদিকে ইফতেখারের শশুর বাড়ি থেকে একটা নতুন গাড়ি তার জামাইকে উপহার দিলো। আর যায় কোথায়? আবার পুরানো রোগ মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠলো। যদিও এবার সে গাড়ী না চালালেও তার বৌ গাড়ী চালিয়ে ইফতেখারকে নিয়ে আনন্দেই ছিল, কিন্ত হঠাৎ বাবা- মা টিভিতে দেখলো গাড়ী দুর্ঘটনায় নতুন দম্পতি মারা গেছে, পরে জানা গেলো জোরে গাড়ী চালানোর জন্যই এই অবস্থা। গাড়ীর প্রতি দূর্বলতা ইফতেখারের ছিল কিন্ত এখন দেখা যাচ্ছে তার বৌরই বা কম ছিল কিসে?
বাবা- মা একই সাথে ছেলে ও ছেলের বৌকে অকালে হারিয়ে এখন পাগল প্রায়।


























































