ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক বুধবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় এলে তাঁর দল পারিবারিক বাড়ির ওপর থেকে উত্তরাধিকার কর (inheritance tax) তুলে নেবে এবং দম্পতিদের অতিরিক্ত ১০ লাখ পাউন্ড (১৩ লাখ ডলার) পর্যন্ত সম্পদ কোনো কর ছাড়াই হস্তান্তর করার সুযোগ দেবে।
অন্য যেকোনো দলের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটেন শাসন করা কনজারভেটিভ পার্টি ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের (ব্রেক্সিট) সিদ্ধান্তের পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে জনমত জরিপে বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনের শেষ দিনে ব্যাডেনক তাঁর বক্তৃতায় কর হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন। তিনি আগামী নির্বাচনকে “জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই” হিসেবে অভিহিত করেন এবং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অর্থনৈতিক দর্শনের বিপরীতে নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ব্যাডেনক বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে তিনি পারিবারিক উত্তরাধিকার কর পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে চান। বর্তমানে ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পত্তির ওপর ৪০ শতাংশ হারে এই কর দিতে হয়; তবে সরাসরি উত্তরাধিকারীকে বাড়ি হস্তান্তর করা হলে ৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়।
ব্যাডেনক বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যারা কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সঞ্চয় করেন, তাঁদের সেই প্রচেষ্টার জন্য পুরস্কৃত করা উচিত।”
**আস্থা পুনরুদ্ধারে আরও কাজ প্রয়োজন: ব্যাডেনক**
জনমত জরিপ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার কর কমানো বা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক জনসমর্থন পাবে। জরিপগুলোতে প্রায়শই উত্তরাধিকার করকে ব্রিটেনের সবচেয়ে অপছন্দনীয় কর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যদিও মাত্র ৫ শতাংশ ধনী পরিবারের সম্পত্তি বা এস্টেটের ওপর এই কর প্রযোজ্য হয়।
হাউস অফ কমন্সের গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান হারে এই কর থেকে ২০৩০-৩১ সাল নাগাদ প্রায় ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর কারণ হলো সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধি—বিশেষ করে লন্ডনে—যার ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ এই কর প্রদানের আওতায় আসছেন।
বক্তৃতায় ব্যাডেনক নিজেকে কম কর ও কম সরকারি ব্যয়ের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। ব্যাডেনক বলেন যে বার্নহ্যামের নীতিগুলো ব্রিটেনকে আরও “দরিদ্র” করে তুলবে; তিনি বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে এমন সব খাতে অর্থ ব্যয়ের আকাঙ্ক্ষা পোষণের অভিযোগ আনেন—যে অর্থ সরকারের হাতে নেই এবং যা ব্যয় করার সামর্থ্যও তাদের নেই।
এছাড়া, ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের কর্মসংস্থান লাভে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি নিয়োগকর্তাদের প্রদেয় ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’ বা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের চাঁদার হার বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।
ব্যাডেনক স্বীকার করেন, নিজের দলের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে “এখনও অনেক কাজ বাকি”।
তিনি বলেন, “মানুষ দোকানের শো-কেসের দিকে তাকিয়ে দেখছে এবং যা দেখছে তা তাদের পছন্দও হচ্ছে, কিন্তু এখনও যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ পণ্যটি কিনছে না। আমাদের এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে।”



































































