মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী চিকিৎসক প্রিসিলা চ্যান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অভিজাত ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ডে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ডলারে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর এটিই তাঁর সবচেয়ে ব্যয়বহুল সম্পত্তি কেনাকাটা। ধনকুবেরদের বসবাসের কারণে দ্বীপটি ‘বিলিয়নিয়ার্স বাঙ্কার’ নামেও পরিচিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে জাকারবার্গ আয়ারল্যান্ডে প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ ডলারে ৪৪০ একরের একটি এস্টেট কিনেছিলেন। সেখানে রয়েছে ১৯৬ বছরের পুরোনো একটি দুর্গ। সেটি তাঁর সর্বশেষ কেনা সম্পত্তি হলেও দামের দিক থেকে ফ্লোরিডার বাড়িটিই চলতি বছরের সবচেয়ে বড় লেনদেন।
কেমন এই ‘বিলিয়নিয়ার্স বাঙ্কার’?
মিয়ামি ও মিয়ামি বিচের কাছে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ড প্রায় ৩০০ একরের একটি মনুষ্যনির্মিত দ্বীপ। এখানে আবাসিক প্লট মাত্র ৪১টি এবং বাসিন্দার সংখ্যাও কম। দ্বীপটির বাসিন্দাদের মধ্যে আছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ফাইন্যান্সার কার্ল আইকান এবং সাবেক এনএফএল তারকা টম ব্র্যাডি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাকারবার্গের কেনা ২ নম্বর ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ড রোডের সম্পত্তিটি দ্বীপের পশ্চিম দিকে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অংশই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। এখানে বড় আকারের waterfront প্লট, বিস্কেন উপসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য পাওয়া যায়, তাই ধনকুবেরদের কাছে এর কদর বেশি।
দ্বীপে বাড়ির দাম শুরু হয় প্রায় ৬ কোটি ডলার থেকে। এমনকি অনুন্নত waterfront জমিও ১০ কোটি ডলারের বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাই বড় আকর্ষণ
ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ডের প্রধান আকর্ষণ এর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বীপটি নিজস্ব সরকার ও পুলিশ বাহিনীসহ একটি স্বতন্ত্র পৌরসভা হিসেবে পরিচালিত হয়। প্রবেশের জন্য রয়েছে একটিমাত্র সুরক্ষিত সেতু, আর স্থলে ও জলে চলে নিরাপত্তা টহল।
দ্বীপের অভ্যন্তরের বড় অংশ জুড়ে আছে অভিজাত ইন্ডিয়ান ক্রিক কান্ট্রি ক্লাব ও এর ১৮ হোলের গলফ কোর্স। ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়া বেশ কঠিন এবং এর জন্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ভর্তি ফি দিতে হয় বলে জানা গেছে।
প্রতিবেশী জেফ বেজোস
এই কেনাকাটার ফলে জাকারবার্গ আরেক প্রযুক্তি ধনকুবের জেফ বেজোসের প্রতিবেশী হচ্ছেন। ২০২৩ সালে ফ্লোরিডায় চলে আসার পর থেকে বেজোস দ্বীপে ধাপে ধাপে নিজের সম্পত্তি বাড়িয়েছেন।
তিনি প্রথমে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারে একটি প্রাসাদ কেনেন, পরে ৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারে লাগোয়া আরেকটি সম্পত্তি। এ ছাড়া ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারে কেনা ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের আরেকটি বাড়িও তাঁর মালিকানায় আছে বলে জানা যায়। গোপনীয়তা ও বড় এস্টেটের জন্য পাশাপাশি একাধিক waterfront সম্পত্তি কিনে একত্র করার প্রবণতা ধনী ক্রেতাদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সম্পত্তির সাম্রাজ্য
ফ্লোরিডার প্রাসাদ জাকারবার্গের বিশাল সম্পত্তির তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।
- ক্যালিফোর্নিয়া: তাঁর মূল ঠিকানা পালো অল্টোতে। ক্রিসেন্ট পার্ক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ১১ কোটি ডলারের বেশি খরচ করে পাশাপাশি একাধিক বাড়ি কিনেছেন।
- হাওয়াই: কাউয়াই দ্বীপে রয়েছে কোওলাউ র্যাঞ্চ। প্রায় ২,৩০০ একরের বেশি আয়তনের এই কম্পাউন্ডে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। প্রতিবেদনে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোর কথাও বলা হয়েছে।
- লেক ট্যাহো: দুটি পাশাপাশি এস্টেট একত্র করে গড়া একটি অবকাশকেন্দ্র আছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
- ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মেটার যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি উডল্যান্ড-নরম্যানস্টোন এলাকায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ‘বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স’-এর প্রেক্ষাপট
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা আগামী সপ্তাহে ধনকুবেরদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের একটি প্রস্তাবে ভোট দিতে যাচ্ছেন। প্রস্তাবিত কর কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, অর্থাৎ পূর্বতারিখ থেকে। এমন সময়েই জাকারবার্গের এই সম্পত্তি কেনার খবর এল।
তবে ফরচুন উল্লেখ করেছে, জাকারবার্গ এখনও ক্যালিফোর্নিয়াকেই নিজের ঠিকানা মনে করেন। এর প্রমাণ হিসেবে তারা বলছে, এ বছরের শুরুতে মেটার মাধ্যমে তিনি স্যাক্রামেন্টোর ডাউনটাউন ও একটি এআই প্রকল্পে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন।
এদিকে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ জানুয়ারিতে মিয়ামির কোকোনাট গ্রোভে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন। আরেকটি সম্পত্তির সঙ্গে মিলিয়ে সেখানে ১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের একটি waterfront কম্পাউন্ড গড়ার পরিকল্পনা তাঁর আছে।
বি.দ্র.: প্রতিবেদনের তথ্য ফরচুনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে পাওয়া। কেনাকাটার অঙ্কগুলো এখনও “reportedly” বা প্রচারিত তথ্য হিসেবেই বিবেচ্য; জাকারবার্গ বা মেটার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতির উল্লেখ নেই।




























































