নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় (আর মাত্র এক মাস বাকি), রিপাবলিকান পার্টির (GOP) বড় বড় অর্থদাতারা নর্থ ক্যারোলিনার নির্বাচনে আর অর্থ ব্যয় না করে অন্য রাজ্যগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ: এটি ইঙ্গিত দেয় যে রিপাবলিকানরা মনে করছেন মাইকেল হোয়াটলি জিততে পারবেন না এবং আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে যাবে; অথচ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসন জয় করা প্রয়োজন।
খবরের প্রেক্ষাপট: বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রিপাবলিকান ‘সুপার প্যাক’ (super PAC) নর্থ ক্যারোলিনায় অক্টোবরের বিজ্ঞাপন প্রচারণার পরিকল্পনা বাতিল করেছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, হোয়াটলি ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক গভর্নর রয় কুপারের চেয়ে বেশ কয়েক পয়েন্ট পিছিয়ে আছেন।
পরিসংখ্যান: ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’ (AdImpact) নামক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রিপাবলিকানরা নর্থ ক্যারোলিনার সিনেট নির্বাচনে ৫৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা ব্যয় করেছে ৪৪ মিলিয়ন ডলার।
উভয় প্রার্থীর সমর্থক প্যাকগুলো অক্টোবরের জন্য প্রতিটি প্রার্থীর পক্ষে ৩৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিজ্ঞাপন আগে থেকেই বরাদ্দ করে রেখেছিল।
তবে একটি বিষয় হলো: সেই হিসাবটি করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার।
সর্বশেষ তথ্য: শুক্রবার ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’ জানিয়েছে, তারা হোয়াটলির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেবে—এমনটাই জানিয়েছে ‘সেমাফর’ (Semafor) ও অন্যান্য জাতীয় গণমাধ্যম।
এটি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য একটি বড় ধাক্কা। ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’ নর্থ ক্যারোলিনায় ১৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল, যা হোয়াটলির মোট সংগৃহীত তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
‘দ্য নিউজ অ্যান্ড অবজার্ভার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলিনার এক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামির কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনার সাথে রয় কুপারকে জড়িয়ে যে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল, তার খরচ এই প্যাকটিই বহন করেছিল।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: হোয়াটলির প্রচারণার মুখপাত্র ডিজে গ্রিফিন বলেছেন, তারা এমন ভোটারদের ওপর বাজি ধরছেন যারা এখনও কোনো পক্ষ বেছে নেননি এবং শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের পক্ষেই ভোট দেবেন।
গ্রিফিন এক ইমেইলে বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ রয় কুপারের ৪০ বছরের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরার মতো প্রয়োজনীয় সম্পদ আমাদের আছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে আমরা জয়ী হব।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র ‘সেমাফর’-কে জানিয়েছে, ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’-এর কাজ হলো “সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং এই পদক্ষেপটি সম্পদের সবচেয়ে কার্যকর ও দক্ষ ব্যবহারের প্রতিফলন।”
বর্তমান পরিস্থিতি: ‘পলিটিকো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘প্রসপারিটি অ্যাকশন’ বা ‘ওল্ড নর্থ অ্যাকশন’—কোনোটিরই অক্টোবরে নর্থ ক্যারোলিনায় অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা নেই।
কানসাস, টেক্সাস এবং আলাস্কার নির্বাচনী লড়াইয়ে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলে এক রিপাবলিকান কর্মী ওই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি হোয়াটলিকে “একজন ভালো মানুষ” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি “দলের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন” (took one for the team)।
অন্তর্নিহিত বিষয়: অর্থ ব্যয়ের এই সংকোচন নর্থ ক্যারোলিনায় অন্যান্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের (যারা একই ব্যালটে লড়ছেন) ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি আসন এবং নর্থ ক্যারোলিনা জেনারেল অ্যাসেম্বলির আসনগুলোর ফলাফল নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
মূল কথা হলো: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নর্থ ক্যারোলিনার প্রতিনিধিত্ব করেননি; তবে এবারের নির্বাচনে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য রিপাবলিকানরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


































































