দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্র গবেষক অমলেন্দু বিশ্বাসের ‘’সেই দিন সেই মন‘’ গুরুচণ্ডালীর ওয়েবসাইটে ধারাবাহিক রূপে প্রকাশিত হয়েছিল। অল্পকিছুদিনের মধ্যেই পাঠক সংখ্যা সহস্রাধিক ছাড়িয়ে যায়। ২৭শে জানুয়ারি ২০২৬ সালে কলকাতা বইমেলাতে সাড়ম্বরে ‘সেই দিন সেই মন’-র আনুষ্ঠানিক ভাবে মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত হয় । ওয়েবসাইটে প্রকাশকালীন এবং বই আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর বহু পাঠক ও সমালোচক তাঁদের অমূল্য মন্তব্য রেখেছেন। নীচে তারই কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হল। এ কাহিনী এক গৃহহীন পিতৃহীন তরুনের, যার বর্তমান সমস্যাসমাকীর্ণ, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবু সে কবিতা লেখে, স্বপ্ন দেখে ; দারিদ্র্য তাকে ম্রিয়মাণ করেনি, অভাব তাকে নত করেনি, সে অহরহ নিজেকে নিয়ে ভাবে, আত্মবিশ্লেষণ করে। স্বাচ্ছল্য থেকে দারিদ্র্য, ব্যর্থতা থেকে সাফল্য, আনন্দ দুঃখ বেদনা বিচ্ছেদ, প্রেম ভালোবাসা, উত্থান পতন, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা, সব মিলে এ এক বর্ণময় জীবন। এ শুধু ঘটনার বিবরণ নয়, এ লিপি হৃদয়ের কলতান; যে গান মনের মধ্যে বেজেছে তার অনুরণন। এ শুধু এক ব্যক্তির জীবন গাথা নয় – এ এক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাস। আছে দেশ বিদেশের বহু বিখ্যাত ও গুণীজনের সাহচর্যের অবিস্মরণীয় মুহূর্তের স্মৃতি। প্রাঞ্জল, সাবলীল ও গতিময় ভাষায় এ-আলেখ্য পাঠককে নিমজ্জিত করবে এক চেনা-অচেনা জগতে ।
*গ্রন্থ সম্পর্কে সমালোচকদের মন্তব্য :*
সব মানুষের জীবনই একটা পথরেখা বলা যায়: জীবনী সেই পথের কাহিনী, যে সব জায়গায় সেই পথ সেই ব্যক্তিকে নিয়ে গেছে তার আলেখ্য। অমলেন্দু বিশ্বাসের কাহিনী মনোজ্ঞ এইজন্যেই যে এখানে দুটো কাহিনি চলেছে পাশাপাশি: এতে অনেক স্থান-কাল-পাত্রের পরিচয় আছে – বসিরহাট, কলকাতা, আসানসোল, লন্ডন, ইরান থেকে আবার লন্ডনে ফিরে আসার কাহিনী; আর আছে অনেক পাত্র পাত্রীর পরিচয় – নিজের পরিবার, প্রেম, বন্ধুত্ব, কিছু অপ্রেম যা সব মানুষের জীবনেই থেকে যায়; কিন্তু তার থেকে বড়ো একটা পরিচয় আছে এতে – যে মন এগুলো দেখে, এই অভিজ্ঞতায় স্নিগ্ধ এবং দগ্ধ হয়, এবং যে আমি বুঝতে চেষ্টা করে সেই আমি কে, এবং এই পথের যাত্রায় তার কি হচ্ছে। তাই এতে পৃথিবীর আর আমির কাহিনী চলেছে পাশাপাশি: এতে আমরা একটি ব্যক্তি এবং তার দেখা ব্যক্তিগত কিন্তু অশেষ বিস্তৃত পৃথিবীকে দেখতে পাই। এই আত্মজীবনীর পাঠকেরা এক পরিশীলিত জীবনের ছবি দেখতে পাবেন যা একই সঙ্গে অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী। যাতে লেখকের সাহিত্যিকের একাকিত্ব ও সমঝদারের সামাজিকতার সুন্দর সমন্বয় আছে। আর তাঁর লেখায় লেখকের শিল্প দেখা যায় সব সময়েই – নিজের জীবনে ক্ষুব্ধ অবস্থাকে বিবৃত করার মধ্যেও এক ধরণের অনুত্তেজিত শান্তভাব আছে, আর লেখার একটা ক্ষমতা আছে যা এই জীবনের বহুবিচিত্র অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করতে পেরেছে – এর মধ্যে একটা ঔপন্যাসিকের দক্ষতা আছে, আবার অনেক জায়গায় যখন কাব্যের সাথে প্রণয়ের প্রসঙ্গ আছে তাকে ধরতে পারার কবিত্বও আছে।
বাঙালি সংস্কৃতিতে প্রবাসীত্ব অনেক দিনের ব্যাপার। প্রথমে সেটা ভারতবর্ষের অভ্যন্তরের পরবাস ছিল, আমাদের যে ঐতিহাসিক কাল তাতে পরদেশে প্রবাস একটা বড়ো বিষয় – অনেক লোকের অভিজ্ঞতার ব্যাপার। অমলেন্দু বিশ্বাসের আত্মজীবনী পাঠকদের এই প্রবাসের সত্য কি , তার বিভিন্ন দিককে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। সব মানুষের জীবনই একটা পথরেখা বলা যায়: জীবনী সেই পথের কাহিনী, যে সব জায়গায় সেই পথ সেই ব্যক্তিকে নিয়ে গেছে তার আলেখ্য। অমলেন্দু বিশ্বাসের কাহিনী মনোজ্ঞ এইজন্যেই যে এখানে দুটো কাহিনি চলেছে পাশাপাশি: এতে অনেক স্থান-কাল-পাত্রের পরিচয় আছে – বসিরহাট, কলকাতা, আসানসোল, লন্ডন, ইরান থেকে আবার লন্ডনে ফিরে আসার কাহিনী; আর আছে অনেক পাত্র পাত্রীর পরিচয় – নিজের পরিবার, প্রেম, বন্ধুত্ব, কিছু অপ্রেম যা সব মানুষের জীবনেই থেকে যায়; কিন্তু তার থেকে বড়ো একটা পরিচয় আছে এতে – যে মন এগুলো দেখে, এই অভিজ্ঞতায় স্নিগ্ধ এবং দগ্ধ হয়, এবং যে আমি বুঝতে চেষ্টা করে সেই আমি কে, এবং এই পথের যাত্রায় তার কি হচ্ছে। তাই এতে পৃথিবীর আর আমির কাহিনী চলেছে পাশাপাশি: এতে আমরা একটি ব্যক্তি এবং তার দেখা ব্যক্তিগত কিন্তু অশেষ বিস্তৃত পৃথিবীকে দেখতে পাই।
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ এ পরবাসে রবে কে! *কবিরাজ সুদীপ্ত* লেখক এবং এই গ্রন্থ প্রসঙ্গে বলেনঃ- যারা প্রথম যৌবনে কোলকাতা ছাড়ে, তারা সারাজীবন বুকের মধ্যে এক কোলকাতাকে বয়ে বেড়ায়, ছোট্ট শিবলিঙ্গের মত। অবশ্য এই কথাটি মুম্বাই বা দিল্লির সন্তানদের জন্যেও সমান ভাবে প্রযোজ্য। এসব কেন মনে এল? আলোচ্য বইটি পড়লে আপনারও তাই মনে হবে, গ্যারান্টি দিচ্ছি। আমার অগ্রজপ্রতিম লেখক শ্রীঅমলেন্দু বিশ্বাসের প্রকাশিতব্য স্মৃতিকথা “সেই দিন সেই মন” এর দ্বিতীয় ভূমিকা লেখার অনুরোধ পেয়ে আমি একাধারে ভীত এবং আপ্লুত। ভয় পাওয়ার কারণ দুটো। এক, তেত্রিশ পর্বে বিধৃত বিশাল এই আত্মজৈবনিক রচনার প্রতি সুবিচার করতে পারব কি? ভূমিকার কাজ, আমার মতে, আগ্রহী পাঠককে বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন করিয়ে দেয়া। অথচ, সতর্ক থাকা– হাঁড়ি থেকে রস না উপচে পড়ে! ঘোমটা পুরো খুলে না যায়। পাঠক যেন ভাবেন—“বঁধুরে আমার দেখিনি এখনও, শুনেছি তার অপরূপ রূপ, চোখের চাহনি চমৎকার”। এলিট সমাজের অদৃশ্য বর্ম এবং প্রাচীর ভেদ করা সবার কর্ম নয়। কী আশ্চর্য—অমলেন্দু সেই কঠিন সাধনায় সিদ্ধ হয়েছেন। কীভাবে? বলব না; বইটি পড়লেই জানতে পারবেন। দ্বিতীয় লড়াই—নিজের সংস্কৃতির মাটি থেকে শেকড় উপড়ে ফেলেও বুকের মধ্যে চারাগাছটির পরিচর্যা করা, তাকে বাঁচিয়ে রাখা। কিন্তু আশি পেরিয়ে যাওয়া অমলেন্দুদার কাহিনীতে ধ্রুবপদ বেজে ওঠে—তবু শান্তি তবু আনন্দ সুন্দর তায় জাগে।
ডিসেম্বর ২০২৫ সমালোচক *রঞ্জন রায়* বলেনঃ– লেখ্য মাধ্যমে ভাব প্রকাশে সাবলীল মানুষের পরিণত বয়সে আত্মজীবনী লিখতে ইচ্ছে করে। যদি সে জীবনের চালচিত্র হয় বৃহৎ, বর্ণময়, যদি সে লেখার বিষয়বস্তু নিজস্ব পরিসরের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই সময় ও সমাজের কিছু ছবি তুলে ধরে, তাহলে তেমন আত্মজীবনী আত্মীয় পরিজনের পরিসর ছাড়িয়ে বৃহৎ পরিমণ্ডলেও আদৃত হয়। তেমন আত্মজীবনীর ভবিষ্যতের জন্য একটা রেফারেন্স ভ্যালুও থেকে যায়। তেমন কিছু আত্মজীবনী পড়ে বেশ লেগেছিল। যেমন তপন রায়চৌধুরীর বাঙালনামা, অশোক মিত্রর তিন কুড়ি দশ, সলিল চৌধুরীর জীবন উজ্জীবন, তপন সিংহর মনে পড়ে, মৃণাল সেনের তৃতীয় ভূবন, নারায়ণ সান্যালের পঞ্চাশোর্ধ্বে ও ষাট একষট্টি ইত্যাদি বড় ক্যানভাসে লেখা অমলেন্দুবাবুর আত্মজীবনীতেও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ছাড়াও আরো অনেক উপাদান আছে। যেমন ইরাণের রাজনৈতিক পালাবদলের যুগসন্ধিক্ষণে তাঁর সেখানে অবস্থান, সত্তর থেকে নব্বই দশকে কম্পিউটারের বিবর্তন, লন্ডনে টেগোর সেন্টার সম্পর্কে নানা বিবরণ, কিছু বিশিষ্ট মানুষের কথা ইত্যাদি। এইসব উপাদান লেখাটিকে ব্যক্তিগত জীবনচরিতের বাইরে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী অমলেন্দু বিশ্বাস একজন গুণী লেখক কবি ও রবীন্দ্র গবেষক। ১৯৩৭ সালে কলকাতায় জন্ম নেয়া এই লেখকের সাথে আমার পরিচয় ঘটে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পি ও সুরকার সৌমেন অধিকারীর মাধ্যমে। সৌমেন অধিকারী সম্প্রতি লন্ডনে বেড়াতে এসছেন তার সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই গেল ১৭জুন ২০২৬ লেখকের নর্থউইক পার্কের বাড়িতে। নব্বই বছর বয়সী এই প্রবীণ লেখক বয়সের ভাড়ে নতজানু হলেও মনের দিক দিয়ে অনেকটা সবল। আমাকে আদর আপ্যায়ন করলেন কথা বললেন অনেক্ষণ, কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে ষাট বছর পূর্বে তার ব্রিটেনে আগমন এবং বিলেতে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে।
মূলতঃ ব্রিটেনে অমলেন্দু বিশ্বাস এবং সেসময়কার সংস্কৃতিমনা যারা বিলেতে এসছেন তাদের হাত ধরেই বিটেনে বাংলা সাহিত্যের প্রতিষ্টানিক চর্চা শুরু হয়। তখনকার সময়ে সুযোগ সুবিধাও ছিল সীমিত। তিনিই লন্ডনে টেগোর সেন্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দীর্ঘ দশ বছর এই সেন্টারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সেন্টারের মাধ্যমে এখনও নিয়মিত বাংলা সাহিত্য চর্চা হয়। গবেষণা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুল নিয়ে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের উপর দেশী বিদেশী শতাধিক রবীন্দ্র গবেষকের লিখা নিয়ে ভারত সরকারের আর্থিক সহযোগীতায় ইংরেজীতে দুই খন্ডে প্রায় দেড় হাজার পৃষ্টার গবেষনা গ্রন্থ *A Creative Unity* Anthology of Rabindranath Tagore প্রকাশ করেছেন ২০০৬ সালে। গ্রন্থ দুটির প্রকাশনার দায়িত্ব নেয় টেগোর সেন্টার লন্ডন এবং ২০১১ সালে *A Timeless Mind* Anthology of Rabindranath Tagore (The book was released by the President of India Sri Pranab Mukherjee) Sponsored by the ICCR government of India. প্রবীণ এই লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫টি।
‘‘সেই দিন সেই মন‘‘ প্রকাশিত হয় কলকাতা বই মেলায় ২০২৬ সালে, ৩২৮ পৃষ্টার এই গ্রন্থটির বিনিময় মূল্য ধরা হয়েছে ভারতীয় ৪৯৯টাকা। প্রকাশক গুরুচন্ডা৯ ট্রাষ্টের পক্ষে সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফ্লাটএ/২, ৭৩/১/১ আর কে চ্যাটার্জী রোড কলকাতা ৪২। মুদ্রণ এসপি কমিউনিকেশন ,৩১বি, রাজা দীনেন্দ্র স্টীট কলকাতা ৭০০ ০০৯। প্রচ্ছদ রমিত চট্রোপাধ্যায়। যোগাযোগঃ guruchandali@gmail.com www.guruchandali.com লন্ডন, আমেরিকা, কানাডায় বই পেতে হলে যোগাযোগ: হীরেন সিংহরা ফোন: +44 7887 626730 (হোয়াটসঅ্যাপেও একই নম্বর) ইমেল: hsingharay@icloude.com
আমি গ্রন্থটির বহুল প্রচার ও প্রসার সেই সাথে গুণী এই লেখক গবেষকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।




















































