সোমবার কক্ষপথে প্রথম উড্ডয়নের পর স্পেসএক্স-এর পরবর্তী প্রজন্মের রকেট ‘স্টারশিপ’ পরিকল্পনার চেয়ে আগেই পৃথিবীতে ফিরে আসে; প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের ঠিক পরপরই কোম্পানির লাইভস্ট্রিমে একটি বিস্ফোরণ দেখা যায়।
বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ: বিশাল আকৃতির এবং সম্পূর্ণ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টারশিপ রকেটটি স্পেসএক্স-এর বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাশাপাশি, নাসা তাদের ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির আওতায় চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী যান (লুনার ল্যান্ডার) হিসেবে এর একটি পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
খবরের প্রেক্ষাপট: পূর্ব সময় (ET) অনুযায়ী সকাল ৯টার ঠিক আগে দক্ষিণ টেক্সাস থেকে স্টারশিপটি প্রায় ১০ ঘণ্টার একটি পরিকল্পিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চিলির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের আগে এটি পৃথিবীর চারপাশে প্রায় ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ৩ ঘণ্টা পরেই স্পেসএক্স এটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে স্টারশিপ কোম্পানির নতুন ও উন্নত কার্যক্ষমতাসম্পন্ন ২৬টি ‘স্টারলিংক ভি৩’ (Starlink V3) ইন্টারনেট স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ মহাকাশে স্থাপন করে।
দৃশ্যমান বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি এবং কোম্পানি এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্যও প্রদান করেনি।
বিস্তারিত তথ্য: উৎক্ষেপণের পরপরই স্টারশিপের প্রথম ধাপ বা ‘সুপার হেভি’ বুস্টারটি ‘গালফ অফ মেক্সিকো’-র পানিতে (splashdown) নেমে আসে।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, আগের একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় বরফ জমে যাওয়ার কারণে অবতরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছিল; সেই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এই ‘সুপার হেভি’ বুস্টারটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: অভিযানের সারসংক্ষেপে স্পেসএক্স উল্লেখ করেছে, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত পরিচালিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবেই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ‘সাব-অরবিটাল’ (পৃথিবীর কক্ষপথ পূর্ণ না করে আংশিক পথ পাড়ি দেওয়া) গতিপথ অনুসরণ করা হয়েছে।”
“কক্ষপথে পৌঁছানোর মাধ্যমে স্টারশিপকে সম্পূর্ণ ও দ্রুত পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে গড়ে তোলার পরবর্তী ধাপটি শুরু করা সম্ভব হবে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ: স্পেসএক্স ভবিষ্যতে স্টারশিপকে তার উৎক্ষেপণ টাওয়ারের বাহুর সাহায্যে ‘ধরে ফেলার’ (catch) পরিকল্পনা করছে—যে কাজটি তারা ‘সুপার হেভি’ বুস্টারের ক্ষেত্রে সফলভাবে সম্পন্ন করলেও স্টারশিপের ক্ষেত্রে এখনো করেনি; তবে এবারের অভিযানে এমন কোনো প্রচেষ্টা চালানো হয়নি।


































































