ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মেয়রের নেতিবাচক সংবাদ ঠেকাতে সক্রিয় আর সেক্রেটারি ইস্ট লন্ডন মসজিদের। তাঁদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ আলোচনা- ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ও বাস্তবতা’। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। চট্রগ্রাম অঞ্চলের একটা প্রবাদ আছে- ‘টেংরার ক্ষেত খাওয়া’। অর্থাৎ সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যখন নিজেই ক্ষতির কারণ, তখন এটি ব্যবহার করা হয়। ক্ষেতের চারপাশে ফসলের সুরক্ষার জন্য যে বেষ্টনি দেয়া হয় সেটিই ‘টেংরা’।
প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করবেন, সুরক্ষা দেবেন -এমনটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁরা দুজন এমন কাজে নিযুক্ত যা প্রকৃতিগতভাবেই সাংবাদিকতা পেশার সংঙ্ঘে সাংঘর্ষিক। সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত কিংবা বাধা প্রদানের অভিযোগও আছে। প্রসঙ্গক্রমে আরো বলতে হচ্ছে- মেয়রের রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় কাউন্সিলের কিছু নিয়োগ বেশ কৌতুহল উদ্দীপক। যা লন্ডনের বাংলা মিডিয়া ও প্রেসক্লাবের অবশিষ্ট সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। নিয়োগপ্রাপ্তরা আমাদের সহকর্মী ও ক্লাবের সদস্য। প্রেসক্লাব রাজনীতিতে এদের প্রত্যোকের ভূমিকা প্রকাশ্য।
লন্ডনে অন্তবর্তিকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লাঞ্চিত
যেমন- গত এজিএম-এ একজন সদস্য আমাকে ইঙ্গিত করে মনোরঞ্জনমূলক যে প্রশ্নটি করেছিলেন তার মূল কথা ছিলো এমন- প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে একজন ব্যক্তির নিয়মিত সমালোচনা ‘অবসেশনের’ পর্যায়ে পড়ে। এটি কীভাবে থামানো যায়? মজার ব্যাপার হলো পরবর্তীতে ওই ভাই কাউন্সিলে নবসৃষ্ট পদে বড় চাকরি পেয়েছেন। আরেকজন জি আর সোহেল ইস্যুতে ‘ব্যাপারটা কী?’ শিরোনামে এক লেখায় ওই ইস্যুতে উত্থাপিত প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে কমিটির সিদ্ধান্তের সাফাই গাইলেন। তিনিও চাকরি পেয়েছেন। ফলে প্রশ্ন জাগে প্রেসক্লাবে এসব সদস্য যে ভূমিকা পালন করেছেন- তা আসলে কেন করেছিলেন?
আমি কিন্তু এসব সহকর্মীর চাকরি পাওয়ায় আনন্দিত। কিন্তু দুঃখ লাগে তাদের অবস্থা হয়েছে সারজিস আলমের শশুরের মত। শশুর বেচারা হয়তো বিচারক নিয়োগের জন্য যোগ্য। কিন্তু সে তো সারজিস আলমের শশুর। এই সম্পর্কের মহিমা তাঁর মেধাকে ছাড়িয়ে গেছে। যেমনটি ছাড়িয়ে গেছে প্রেসিডেন্টের পক্ষে চাকরি পাওয়া সহকর্মীদের অতি উৎসাহী ভূমিকা।
এসব সহকর্মী কি আদৌ লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নিয়ে নিরপেক্ষ নিউজ করতে পারবেন? তারা কি নির্মোহভাবে প্রেসক্লাবে নিজস্ব মত প্রকাশ করতে পারবেন? কারো চাকরি পাওয়া কোনো আলোচনার বিষয় না। কিন্তু যারা পাচ্ছে, তারা কেন পাচ্ছে এবং বাংলা মিডিয়া ও প্রেসক্লাবের রাজনীতিকে তা কীভাবে প্রভাবিত করছে- সেটি ভাবার উদ্রেক তৈরি করে।
এখন সংবাদ সম্মেলনে/প্রেসক্লাবের আয়োজনে সংবাদকর্মীর চাইতে প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে যাওয়া লোকদের উপস্থিতিও বেশ লক্ষণীয়। আমাদের প্রেসক্লাব এখন শুধু প্রেসক্লাব নয়; এটা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের জন্য মেধাবী কর্মী তৈরির কারখানাও। ফলে এখানে সাংবাদিকতা, ক্লাবের সুনাম ও স্বার্থের চাইতে প্রেসিডেন্টের মনোরঞ্জন ও সুনজরে থাকার গুরুত্ব অনেক বেশি। এটাই মেয়রের এডভাইজার প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার অস্বস্তিকর ম্যাজিক। এসব নানা কারণে বর্তমান কমিটি স্বাধীণ সাংবাদিকতার পক্ষে কিছু আয়োজন করলে তা বড্ড হাস্যকর ও দৃষ্টিকটু লাগে। কেউ কেউ হয়তো আয়োজনটি ধর্ষকের ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ কিংবা মাদক ব্যাপারীর মাদক প্রতিরোধ সভা অথবা চোরের ইমামতীসহ নানা কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। আমি এমন কোনো তুলনার পক্ষে নই। বললো- ব্যাপারটা তত্ববধায়ক সরকারের দাবিতে শেখ হাসিনার সমাবেশ আয়োজনের মত।
প্রেসিডেন্টের পক্ষ নেয়া অথবা তার গুনগান করার হয়তো অনেক যৌক্তিক কারণ আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- ইদানিং কোনো সদস্যকে প্রেসিডেন্টের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করতে দেখলেই মনে হয় কিছু একটা পাওয়ার লাইনে আছে। অথবা প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য তাদের এত ব্যাপক মেধাবী করে তুলছে যে, শিঘ্রই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কঠোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেরা হয়ে কাউন্সিলে নিয়োগ পাওয়ার খবর আসবে! সবশেষ কথা হলো- আমাদের প্রেসক্লাবে এখন ‘টেংরায় ক্ষেত খাচ্ছে’। অর্থাৎ পাহারাদার নিজেই নষ্টের কারণ। ফলে আগে সেখানে সংশোধন দরকার, তারপর মিডিয়া সংস্কার বিষয়ে আলোচনার আয়োজন মানানসই হবে।
তবারুকুল ইসলাম, সদস্য লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব
(লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের মিডিয়া গ্রুপ থেকে পাওয়া)





















































