রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ কিয়েভে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে ক্রেমলিনে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ইউক্রেনীয় এই নেতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁর সরকার দোনবাস অঞ্চলকে পরিত্যাগ করবে না।
লন্ডনে আলোচনার সময় স্কাই নিউজকে দেওয়া জেলেনস্কির এই মন্তব্যই ছিল তাঁর প্রথম স্বীকারোক্তি যে, এই রুশ ধনকুবের ইউক্রেনের রাজধানীতে এসেছিলেন এবং আলোচনায় কিছুটা হলেও জড়িত ছিলেন।
জেলেনস্কি বলেন, “তিনি কিয়েভে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সরাসরি আপনাকে একটি বার্তা দিচ্ছি। এবং আমি আপনার কাছ থেকে একটি বার্তা নিয়ে (রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির) পুতিনকে দিতে চাই’। কিন্তু তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের প্রকাশ্য বার্তা ছাড়া বিষয়টি নীরবে সম্পন্ন করতে হবে।”
জেলেনস্কি বলেন, বৈঠকটি “গোপন ছিল না,” এবং যোগ করেন যে রুশরা জানতে চেয়েছিল কিয়েভ “কী করতে প্রস্তুত”।
“আমি বলেছিলাম, প্রশ্নটা আমাদের নিয়ে নয়। আপনারা আমাদের ভূখণ্ডে আমাদের বিরুদ্ধে লড়ছেন। আমি তাকে দোনবাসের কথা বলেছিলাম এবং এটাই ছিল মূল বার্তা। আমি বলেছিলাম, আমরা আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে যাব না এবং সেখান থেকে বের হব না। না, আমরা এভাবে আপনাদের বিজয় পেতে দেব না। এবং আপনারা তা পাবেনও না।”
চেলসি ফুটবল ক্লাবের প্রাক্তন মালিক আব্রামোভিচ, ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন।
আক্রমণের প্রথম সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধবিরতির ব্যর্থ আলোচনায় এবং কৃষ্ণ সাগরের শস্য চালান নিশ্চিত করার একটি চুক্তিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, কিন্তু তারপর থেকে তাকে তেমন দেখা যায়নি।
পুতিন এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে গঠিত দোনবাস অঞ্চল কিয়েভ ত্যাগ না করা পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত নয়। ইউক্রেনের বাহিনী দোনেৎস্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে রেখেছে এবং জেলেনস্কি বলেছেন তারা এই এলাকা এবং সেখানে থাকা হাজার হাজার ইউক্রেনীয়কে পরিত্যাগ করবে না।
জেলেনস্কি আবারও রাশিয়া বা বেলারুশে পুতিনের সঙ্গে যেকোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আলোচনার জন্য দ্রুততম উপায় হিসেবে তিনি বিদ্যমান ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধবিরতি মেনে নেবেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে।
জেলেনস্কি বলেন, “হ্যাঁ। এটাই দ্রুততম উপায়।” “(কিন্তু) আমরা এমনভাবে যুদ্ধ থামাতে চাই যাতে তা আর ফিরে না আসে। উদ্দেশ্য শুধু (যুদ্ধ) থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং দ্রুততম উপায় হলো (যুদ্ধ) থামিয়ে দিয়ে এটিকে একটি কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।”


























































