বুধবার নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বতের হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি হিমবাহ ধসের ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, এতে অন্তত ২৭০ জন নিহত হন এবং কর্তৃপক্ষ আরও হতাহতের আশঙ্কা করছে।
ইতিহাসের কয়েকটি সবচেয়ে মারাত্মক হিমবাহ দুর্যোগ নিচে দেওয়া হলো।
১৯৪১ — হুয়ারায, পেরু
উত্তর পেরুর উচ্চ আন্দিজ পর্বতমালার হুয়ারায শহরের এক-তৃতীয়াংশ একটি হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং আনুমানিক ৫,০০০ মানুষ নিহত হয়। এটি ইতিহাসে পরিচিত সবচেয়ে মারাত্মক হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
১৯৬২ — রানরাহিরকা, পেরু
পেরুর সর্বোচ্চ পর্বত হুয়াসকারান থেকে বরফের একটি বিশাল খণ্ড ভেঙে পড়ে, যার ফলে মাত্র সাত মিনিটে ১ কোটি ঘনমিটার শিলা, বরফ এবং তুষার পর্বত থেকে নিচে নেমে আসে। এটি রানরাহিরকা গ্রাম এবং এর নিকটবর্তী বেশ কয়েকটি বসতিকে ১২ মিটার কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা দেয়, এতে আনুমানিক ৪,০০০ মানুষ নিহত হয়।
১৯৭০ — ইয়ুঙ্গাই, পেরু
৭.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হুয়াসকারান পর্বতের উত্তর প্রাচীরকে অস্থিতিশীল করে তোলে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক হিমবাহ-সম্পর্কিত বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটায়। হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ঘণ্টায় ৩৩৫ কিমি (২০৮ মাইল) পর্যন্ত গতিতে ইয়ুঙ্গাই এবং রানরাহিরকা শহরের দিকে ধেয়ে আসে এবং শহরগুলোকে কাদার নিচে চাপা দেয়।
এই তুষারধসে আনুমানিক ২৫,০০০ মানুষ নিহত হয়, যা ভূমিকম্পে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করে।
১৯৮১ — চিরেনমা কো, তিব্বত
চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত হিমবাহ হ্রদ চিরেনমা কো-তে একটি ঝুলে থাকা হিমবাহের বরফখণ্ড আছড়ে পড়ে এবং এর মোরাইন বাঁধের উপর দিয়ে একটি বিশাল ঢেউ পাঠিয়ে দেয়। এই আঘাতে প্রায় ২ কোটি ঘনমিটার জল, বরফ এবং ধ্বংসাবশেষ নেপালের দিকে তীব্র বেগে ধেয়ে আসে।
এই ঘটনায় নেপালে আনুমানিক ২০০ জন নিহত হন এবং সেতু, রাস্তা, একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রায় ৪০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়।
২০২১ — চামোলি, ভারত
ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নন্দা দেবীর নিকটবর্তী রন্টি চূড়া থেকে বরফের একটি বিশাল অংশ খসে পড়ে এবং উপত্যকার ১৫০০ মিটার নিচে পাথর, ধুলো ও বরফের এক ধ্বংসাত্মক স্রোত পাঠিয়ে দেয়।
এর ফলে উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, গ্রাম ধ্বংস হয় এবং দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে যায়।
২০২৬ — নেপাল-তিব্বত সীমান্ত
হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিম্ন অংশ ধসে উপত্যকার সমতলে আছড়ে পড়ায় নেপাল ও তিব্বত জুড়ে ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এর ফলে পার্বত্য সীমান্ত বরাবর লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের এক বিশাল ধস নামে।
এই ভূমিধস তিব্বতের জিরং বন্দরে আছড়ে পড়ে এবং সেখান থেকে নেপালে প্রবেশ করে। এর ফলে সৃষ্ট তীব্র গতির আকস্মিক বন্যায় পুরো রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভেসে যায় এবং গ্রামগুলো প্লাবিত হয়।
পুলিশ আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়ে যাবে।

































































