বাংলাদেশে সাংবাদিক হয়রানির নিন্দা জানিয়েছে, শ্রীলংকান ওয়ার্কিং জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন (SLWJA) এবং নেপাল প্রেস ইউনিয়ন। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে, শ্রীলংকান ওয়ার্কিং জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রঙ্গা বান্দারানায়েকে, সাধারন সম্পাদক মিথুন জয়বর্ধনা এবং নেপাল প্রেস ইউনিয়নের সভাপতি শিব লামসাল, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের অব্যাহত আটক ও আইনি হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিনা বিচারের কারাগারে আটক সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেপাল ও শ্রীলংকান সাংবাদিক নেতারা এই অঞ্চলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছে শ্রীলঙ্কার সাংবাদিক ইউনিয়ন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের অব্যাহত আটক ও আইনি হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কান ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (SLWJA) নেপাল প্রেস ইউনিয়নের (NPU) সাথে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে ‘একাত্তর টেলিভিশন’-এর প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’-এর সম্পাদক শ্যামল দত্তকে আটকের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল যে আদেশ দিয়েছে, SLWJA তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। একটি প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার কারণে চরম সব অভিযোগের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা ও আটক করার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় এক বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের দায়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইনি ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাটা মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হলো মৌলিক মানবাধিকার এবং একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি; গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি এই মূল মূল্যবোধগুলোকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে।
এনপিইউ (NPU) এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার বিভিন্ন পক্ষের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে, এসএলডব্লিউজেএ (SLWJA) বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি নিম্নলিখিত আহ্বান জানাচ্ছে: আটক সাংবাদিকদের শারীরিক নিরাপত্তা, মৌলিক মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা; অবিলম্বে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং যেকোনো তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয় তা নিশ্চিত করা; এবং তাঁদের পেশাগত কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ভিত্তিহীন অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দেওয়া। SLWJA বাংলাদেশের সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে অবিচল এবং এই অঞ্চলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বিনীত,রঙ্গা বান্দারানায়েকে সভাপতি মিথুন জয়বর্ধনা সাধারণ সম্পাদক
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ‘একাত্তর টেলিভিশন’-এর প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’-এর সম্পাদক শ্যামল দত্তকে আটকের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল যে আদেশ দিয়েছে, তা গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছে নেপাল প্রেস ইউনিয়ন। সংবাদ সম্মেলনে কেবল প্রশ্ন করার কারণে গুরুতর অভিযোগে সাংবাদিকদের আটক করা সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রতিহিংসামূলক আইনি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায় নেপাল প্রেস ইউনিয়ন।
আমরা বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হয়, সাংবাদিকদের আইনি ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়, অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি মৌলিক স্তম্ভ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা দমন-পীড়ন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর একটি আঘাত। শিব লামসাল সভাপতি নেপাল প্রেস ইউনিয়ন।
































































