
সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, হাইমচর, চাঁদপুর।
জলরেখা
অনেক ডাকলাম অনুরাগের উৎকণ্ঠায়,
তবুও তুমি আসলে না।
ভেবেছিলাম তোমার কোমল ছোঁয়ায়
নিজেকে সিক্ত করবো,
চোখ মেলে দেখবো ধুলিমলিন পৃথিবী
আবার নতুন সবুজে ভরে উঠছে।
কিন্তু তুমি যখন আসলে,
তোমার অশান্ত ছোঁয়া বয়ে আনলো বিষাদের গর্জন,
কেড়ে নিলে জনা কয়েক জীবন,
সাথে ছিল কিছু অপার সম্ভবনাও।
আমি চেয়ে রইলাম নির্বাক, শূন্য দুই চোখে,
ভেবেছিলাম তুমি আশীর্বাদ, এ যে অভিশাপের অগ্নি।
কিন্তু বুকে চাপা ক্ষত রেখে গেলে তুমি,
ভেজা বাতাসে মিলিয়ে গেল নিঃশ্বাস।
তারপরও তোমার অপেক্ষায় বসে থাকি,
জলে ডুবে যাওয়া মাঠে একদিন ফুটবে ফসল।
তোমার প্রতিটি অশ্রুতে আছে শুদ্ধির গল্প,
যেমন জ্বালার পরে আসে প্রশান্তির নিশ্বাস।
তোমার আসা মানেই দুই ধারের খেলা,
এক পাশে জীবন, অন্য পাশে লাশের মেলা।
তবুও চোখ রাখি দূর নীল প্রান্তরে
হয়তো কোনো একদিন, শান্ত নদীর তীরে
তুমি আসবে সত্যিই—শুধু আশীর্বাদ হয়ে।
অন্ধ লোভের দেশে
হে বঙ্গ সন্তান—
তোমরা কি কেউ আছো?
আমায় মুক্তি দিবে?
প্রতিদিনের খুন, হত্যা, ধর্ষণ—
আমি আর নিতে পারছি না…
শ্বাস নিতে গেলেও আজ রক্তের গন্ধ পাই।
এই মাটির আর্তনাদ শুনছ কি কেউ ?
বুকের ভেতর জমে থাকা ক্রন্দন।
বিবেকগুলো কি আজ শিকলবন্দী—
নাকি বিকিয়ে গেছে অন্ধ লোভে?
আলো খুঁজে ফিরি
আমি আলো দেখিনা
দেখি মবের অন্ধকার তাণ্ডব,
হিংসার উল্লাস, নির্মমতার উন্মাদনা
রাস্তায় জ্বলে আগুন,
মানুষ পুড়ে যায়—
কিন্তু বিবেক থাকে নির্বাক।
আমি আলো দেখিনা
দেখি মবের অন্ধকার তাণ্ডব,
কোথায় সেই মানুষ?
যার চোখে ছিল সহমর্মিতা,
যার হাতে ছিল ভালোবাসার স্পর্শ—
আজ সে হারিয়ে গেছে
ভিড়ের বুনো চিৎকারে।
তবুও আমি থামি না,
এই অন্ধকারের বুক চিরে
একটুখানি আলো খুঁজে ফিরি—
কারণ আমি জানি,
একদিন সূর্য উঠবেই।
দানবের ছায়া
ধর্ষক তুমি মানুষ!
তোমাকে মানুষ ভাবতেই ঘৃণায় গা শিউড়ে উঠে।
তোমার রক্ত কি লাল
তুমি কি শোনো নিপীড়িত আর্তনাদ
কীসের এত বিকৃত উল্লাস তোমার ?
চিৎকার চাপা পড়ে দেয়ালের ফাঁকে
তুমি মানুষের মুখোশ পরা দানব !
তোমার স্পর্শে ঝলসে যায় সততা
তুমি অন্ধকারের অভিশাপ।
স্বপ্ন ভাঙে রক্তের দাগে।
পাপের অন্ধকারে ডুবে থাকা
অন্ধকারই কি তোমার ঠিকানা?
ধর্ষক তুমি কি আনন্দিত ধর্ষণে
তোমার মগজের চিন্তার কুরুচির বহিঃপ্রকাশ
স্তম্ভিত লজ্জিত মনুষ্যত্ব মূল্যবোধ নৈতিকতা।
কেন করো তুমি অমানবিক হিংস্রতা
আতঙ্ক, লজ্জা, ব্যথার দলা—
কিছুই কি ছোঁয় না তোমার অন্তর?
শুনতে পাও না বিবাগী আত্মার আর্তনাদ ?
একটি প্রাণের চিৎকার, একটি স্বপ্নের মৃত্যু,
তবু কি সুখ খুঁজে পাও সেই নিষ্ঠুরতা ?
রক্তে ভেজা শরীর কি শান্তি দেয় তোমায় ?
অশ্রু-ভেজা চোখ কি কখনো তাড়া দেয় না ?
ভোরের আলোয় আয়নায় তাকিয়ে দেখো,
সেখানে কি মানুষ, নাকি দানবের ছায়া?
হাসতে ভুলে গেছি
হাসতে ভুলে গেছি
চারিপাশে খুন, ধর্ষণ, হত্যা,গুম, অগ্নি সংযোগ আর
সিন্ডিকেটদের দৌরাত্ব দেখে।
আমি স্তম্ভিত,আমি বাকরুদ্ধ
চোখের কোণে নোনা জলের বর্ষণ।
ঠোঁট দুটো সেঁলাই করা,হাতে-পায়ে শিকল পরা
স্বপ্নগুলো জ্বলছে ধুঁকে ধুঁকে,
নাই কোনো অভিযোগের অধিকার!
বিবেকের শূন্যতা
মানুষগুলো আজ শুধুই সংখ্যা।
প্রতিবাদ নিভে যায় ক্ষমতার থাপে ,
ভয় আর শাসনে শিকল পরানো,
সত্যের পথ আজ আঁধারে হারায়।
রক্তে রঞ্জিত শহর-গ্রামের মেঠো বুক
স্বাধীনতা আজ লুটেরাদের হাতে।
তবু ও খুঁজি এক টুকরো আলো
অন্ধকারে জ্বলবে আশার প্রদীপ।
লড়াইয়ের অপেক্ষায় এখনো চুপ
বুকে জমা ক্ষোভের সঞ্চয়
জেগে উঠবে ভাঙবে অন্যায়ের এই প্রাচীর।


























































