বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবেন যে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবেন কি না।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল—যেখানে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হতো যে, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তিনি নতুন করে বোমা হামলার পথ বেছে নেবেন কি না।
আপাতত প্রেসিডেন্ট তিনটি বিকল্প বিবেচনা করছেন: নতুন করে হামলা চালানো, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখা, অথবা এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যেখানে ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হবে।
মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো ট্রাম্প ও তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ইরান ইস্যুতে বৈঠক করেছেন; এটি ছিল তার সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ।
ট্রাম্প যা বলছেন: ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এখন আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু আর কখনোই না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে আরও হামলা চালাব?” তিনি বলেন, “সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতেই হতে পারে। আপনারা খুব শীঘ্রই জানতে পারবেন।”
বর্তমান পরিস্থিতি: ট্রাম্প যখন তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছিলেন, তখন বৃহস্পতিবার ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকবার টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে।
কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা ইরান এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রস্তাবে উভয় পক্ষকে দুই দিনের মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা এবং একটি বৃহত্তর সমঝোতার পথ প্রশস্ত করা।
আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরানের জব্দকৃত কিছু অর্থ অবমুক্ত করবে। এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে, যাতে তারা বোমা হামলার শিকার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শক পাঠাতে পারে—যা এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির অংশ ছিল।
দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং এরপর ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি: ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই—যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার ক্ষেত্রে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
পুতিন ও রেজাইয়ের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের কয়েক দিন পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
রেজাই জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের পক্ষ থেকে পুতিনের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পুতিন যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকের পর রেজাই বলেন, “আমরা পুতিনকে জানিয়েছি যে, কূটনীতির বিষয়ে আমরা আমেরিকানদের সামনে সাতটি শর্ত রেখেছি। যতক্ষণ না তারা এই সাতটি শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।”
লক্ষ্যণীয় বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় একটি নৌ-বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন ইঙ্গিত দিতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ও এর স্ট্রাইক গ্রুপটি শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরের বন্দরে অবস্থান করবে। এটি নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের আগে সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছাবে না।































































