বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য একটি “অনুকূল পরিবেশ” তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে নির্বাসিত থাকার রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।
রহমানের এই মন্তব্য তার ছয় মাস বয়সী সরকারের বৃহত্তম প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে। একইসাথে, ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে প্রধান অস্বস্তিকর হয়ে থাকা বিষয়গুলোতে অগ্রগতি সাধনের চেষ্টাও এর অন্তর্ভুক্ত।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে রহমান ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চেয়ে আসলেও, সোমবারের মন্তব্যই তার প্রথম যেখানে তিনি সম্পর্ক জোরদার করার জন্য পরিস্থিতির উন্নতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকে রহমান এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রহমান “দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ করেছে।
সরকার পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থানরত হাসিনা বাংলাদেশে আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন এবং নভেম্বরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কয়েকদিন পরই ঢাকার এই অনুরোধটি আসে। একটি অনলাইন অডিও কনফারেন্সে তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা ভারতে তার অব্যাহত উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, হাসিনাকে এই অনুষ্ঠান করার সুযোগ দেওয়াটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বাংলাদেশ এতে ক্ষুব্ধ।
ভারত জানিয়েছে, তারা তাদের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভারতীয় হাইকমিশন বলেছে, ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে “ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” মনোভাব নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।













































































