রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্টারলিংক (Starlink) এবং ওয়ানওয়েব (OneWeb)-এর মতো পশ্চিমা স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবাগুলো সার্বভৌম দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ব্যবহৃত হতে পারে, যা একটি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ (RIA) এ তথ্য জানিয়েছে।
আরআইএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলের প্রেসিডিয়ামের এক বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি রাশিয়ার নিজস্ব লো-আর্থ অরবিট (পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ) স্যাটেলাইট সিস্টেম এবং ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে আরআইএ জানায়, “বৈঠকে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে পশ্চিমা মহাকাশ-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার প্রধান ঝুঁকি ও হুমকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এটি বিশেষ করে স্টারলিংক এবং ওয়ানওয়েবের মতো বহুল ব্যবহৃত স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা বর্তমানে এমন সব দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে যারা তাদের জাতীয় অর্থনীতিতে দ্রুত ডিজিটালাইজেশন আনতে আগ্রহী।”
গত মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইলন মাস্ককে একজন ‘প্রতিভাবান’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সিস্টেমের বিপরীতে রাশিয়া কেবল তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে।
পুতিনের এই মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স (SpaceX)-এর তৈরি স্টারলিংক সিস্টেমটি রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ড্রোন পরিচালনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
রাশিয়ার ডিজিটাল উন্নয়ন মন্ত্রী মাকসুত শাদায়েভ সেই সময় পুতিনকে জানিয়েছিলেন যে, স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া নিজস্ব একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাসভেত’ (Rassvet – যার অর্থ ‘ভোর’)। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাশিয়া এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে।































































